ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জরিমানা-নিষেধাজ্ঞার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের স্মরণে অটল এনএফএল খেলোয়াড় Logo বিশ্ব হার্ট দিবস আজ: হৃদ্‌রোগের পর ওষুধ নেননি ঝুঁকিতে থাকাদের ৭৭ শতাংশ Logo ফিরেই বিটিএসের বাজিমাত, ইতিহাস গড়লেন লিসা Logo তুরস্ককে উড়িয়ে জয়ে ফিরল ইতালি Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সাবেক এমপির বাসা থেকে ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার Logo ‘ভয়ংকর’ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান Logo ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির অভিযোগে ইউপিএলের বিক্রয়কেন্দ্রে তালা Logo ‘ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র’ Logo ‘হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’, মধ্যরাতে উত্তাল চুয়েট Logo গাজা পুনর্গঠন ও ফিলিস্তিনের অধিকারের প্রতি সমর্থন শ্রীলঙ্কার

ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, উল্টো চাপে পড়তে পারেন ট্রাম্প

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তেহরান প্রস্তাব দিয়েছিল যে কিছু নির্দিষ্ট মার্কিন ছাড়ের বিনিময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে উল্টো সময়ক্ষেপণকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভাবছেন বর্তমান পরিস্থিতি তার অনুকূলে রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে তিনি তেহরানের ওপর আরও বেশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাবি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। তার ধারণা, বর্তমান মুহূর্তে ইরানের প্রস্তাব মেনে নেওয়াকে হোয়াইট হাউসের জন্য একটি তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্য হলো কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখে ইরানকে আরও বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করা। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে এই ধরনের একতরফা কৌশল বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তেহরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর ফলে তাদের রাজনৈতিক আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা খুবই কম এবং তাদের মূল নীতি বা রেড লাইন অপরিবর্তিত থাকবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামীতে দেশের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলমান থাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের বিপাকে পড়তে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে তেহরানের হাতে এখনও বেশ কিছু কার্যকর কৌশলগত চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়ে গেছে।

যদি ওয়াশিংটন বড় ধরনের ছাড় না দিয়ে কেবল চাপ বাড়াতে থাকে, তবে ইরানি নেতারা ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন সমঝোতায় আসার আগ্রহ দেখাবেন না। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক বিরোধ আরও গভীর হতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয়

জরিমানা-নিষেধাজ্ঞার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের স্মরণে অটল এনএফএল খেলোয়াড়

ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, উল্টো চাপে পড়তে পারেন ট্রাম্প

প্রকাশিত ০১:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তেহরান প্রস্তাব দিয়েছিল যে কিছু নির্দিষ্ট মার্কিন ছাড়ের বিনিময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে উল্টো সময়ক্ষেপণকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভাবছেন বর্তমান পরিস্থিতি তার অনুকূলে রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে তিনি তেহরানের ওপর আরও বেশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাবি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। তার ধারণা, বর্তমান মুহূর্তে ইরানের প্রস্তাব মেনে নেওয়াকে হোয়াইট হাউসের জন্য একটি তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্য হলো কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখে ইরানকে আরও বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করা। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে এই ধরনের একতরফা কৌশল বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তেহরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর ফলে তাদের রাজনৈতিক আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা খুবই কম এবং তাদের মূল নীতি বা রেড লাইন অপরিবর্তিত থাকবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামীতে দেশের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলমান থাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের বিপাকে পড়তে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে তেহরানের হাতে এখনও বেশ কিছু কার্যকর কৌশলগত চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়ে গেছে।

যদি ওয়াশিংটন বড় ধরনের ছাড় না দিয়ে কেবল চাপ বাড়াতে থাকে, তবে ইরানি নেতারা ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন সমঝোতায় আসার আগ্রহ দেখাবেন না। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক বিরোধ আরও গভীর হতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।