মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে তেহরান। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির নীতিনির্ধারকরা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান প্রস্তুত রাখছেন বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
পরিস্থিতি শান্ত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে মধ্যস্থতাকারীদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বরফ গলানোর এবং চলমান সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টিও সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই আলোচনার সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।
বিশ্লেষকদের মতে, এক দিকে আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিত এবং অন্য দিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি—এই দ্বিমুখী নীতি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর এই টানাপোড়েনের মাঝে শেষ পর্যন্ত শান্তিচুক্তি নাকি বড় ধরনের যুদ্ধ অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

































