ঢাকা ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ডাক্তারি পড়াশোনা বদলে বিচারক হলেন শাওলিন Logo মাত্র ১৫ মিনিটের রক্তপরীক্ষায় জানা যাবে শিশুর জ্বরের আসল কারণ কী Logo স্কুলের শিক্ষক খুঁজে পেলেন বিরল টি–রেক্সের পায়ের ছাপ Logo কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে তিন দফায় আটক ১২৯৪ Logo গোপনে আবুধাবি সফর নেতানিয়াহুর, আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক Logo এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি মামলা প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে হলান্ডের নরওয়েকে হারাল পর্তুগাল Logo উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ: প্রকল্পজটে ৬১% কমেছে ঋণছাড় Logo ২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী Logo জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে অক্টোবরে: প্রসিকিউটর মিজানুল

উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ: প্রকল্পজটে ৬১% কমেছে ঋণছাড়

দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোতে বিদেশি ঋণের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর থেকে শুরু করে প্রকল্প প্রস্তুতি, দরপত্র আহ্বান এবং ঋণদাতার বিভিন্ন শর্ত পূরণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বরাবরই পিছিয়ে পড়ছে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকায় এবং নানা জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এসব প্রশাসনিক ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের हालের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদেশিক সহায়তার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আশানুরূপ না হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীরাও অর্থছাড়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে, যার ফলে একদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার হার কমে যাচ্ছে এবং অন্যদিকে পাইপলাইনে থাকা পুরোনো ঋণের অর্থছাড়ও উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। সাম্প্রতিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক অর্থছাড় এক বছরের ব্যবধানে শতকরা একষট্টি ভাগ পর্যন্ত কমে গেছে।

ইআরডির প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নির্দিষ্ট ওই দুই মাসে বিদেশি সহায়তার বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ছাড় হয়েছে মোটে প্রায় উনত্রিশ কোটি পঁয়তাল্লিশ লাখ ডলার। অথচ আগের বছরের ঠিক একই সময়ে এই ছাড়ের পরিমাণ ছিল প্রায় পঁচাত্তর কোটি ডলার, যা বর্তমান পরিস্থিতির অবনতির স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। এর মধ্যে ঋণের পাশাপাশি অনুদান সহায়তার পরিমাণও আগের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যা বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহকে আরও সংকুচিত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পের কাজ সময়মতো শুরু বা আশানুরূপ অগ্রগতি না হলে ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা, নকশা প্রণয়ন বিলম্বিত হওয়া, ক্রয়প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং ঋণদাতা সংস্থার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণেই মূলত অর্থছাড়ের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি, নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি আসার হারও কিছুটা কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় আশঙ্কাজনক হারে কমে গেলেও ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে পুরোনো ঋণের পরিশোধের ক্ষেত্রে। আলোচ্য সময়ে মূল ঋণ এবং এর বিপরীতে সুদ পরিশোধের আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা না আনলে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর না করলে ভবিষ্যতে বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ আরও বেশি সংকটের মুখে পড়তে পারে।

জনপ্রিয়

ডাক্তারি পড়াশোনা বদলে বিচারক হলেন শাওলিন

উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ: প্রকল্পজটে ৬১% কমেছে ঋণছাড়

প্রকাশিত ০৬:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোতে বিদেশি ঋণের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর থেকে শুরু করে প্রকল্প প্রস্তুতি, দরপত্র আহ্বান এবং ঋণদাতার বিভিন্ন শর্ত পূরণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বরাবরই পিছিয়ে পড়ছে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকায় এবং নানা জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এসব প্রশাসনিক ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের हालের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদেশিক সহায়তার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আশানুরূপ না হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীরাও অর্থছাড়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে, যার ফলে একদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার হার কমে যাচ্ছে এবং অন্যদিকে পাইপলাইনে থাকা পুরোনো ঋণের অর্থছাড়ও উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। সাম্প্রতিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক অর্থছাড় এক বছরের ব্যবধানে শতকরা একষট্টি ভাগ পর্যন্ত কমে গেছে।

ইআরডির প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নির্দিষ্ট ওই দুই মাসে বিদেশি সহায়তার বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ছাড় হয়েছে মোটে প্রায় উনত্রিশ কোটি পঁয়তাল্লিশ লাখ ডলার। অথচ আগের বছরের ঠিক একই সময়ে এই ছাড়ের পরিমাণ ছিল প্রায় পঁচাত্তর কোটি ডলার, যা বর্তমান পরিস্থিতির অবনতির স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। এর মধ্যে ঋণের পাশাপাশি অনুদান সহায়তার পরিমাণও আগের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যা বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহকে আরও সংকুচিত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পের কাজ সময়মতো শুরু বা আশানুরূপ অগ্রগতি না হলে ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা, নকশা প্রণয়ন বিলম্বিত হওয়া, ক্রয়প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং ঋণদাতা সংস্থার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণেই মূলত অর্থছাড়ের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি, নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি আসার হারও কিছুটা কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় আশঙ্কাজনক হারে কমে গেলেও ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে পুরোনো ঋণের পরিশোধের ক্ষেত্রে। আলোচ্য সময়ে মূল ঋণ এবং এর বিপরীতে সুদ পরিশোধের আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা না আনলে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর না করলে ভবিষ্যতে বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ আরও বেশি সংকটের মুখে পড়তে পারে।