ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মাত্র ১৫ মিনিটের রক্তপরীক্ষায় জানা যাবে শিশুর জ্বরের আসল কারণ কী Logo স্কুলের শিক্ষক খুঁজে পেলেন বিরল টি–রেক্সের পায়ের ছাপ Logo কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে তিন দফায় আটক ১২৯৪ Logo গোপনে আবুধাবি সফর নেতানিয়াহুর, আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক Logo এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি মামলা প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে হলান্ডের নরওয়েকে হারাল পর্তুগাল Logo উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ: প্রকল্পজটে ৬১% কমেছে ঋণছাড় Logo ২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী Logo জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে অক্টোবরে: প্রসিকিউটর মিজানুল Logo নামফলকে নিজের নাম দেখে ফলক উন্মোচন করেননি হাসনাত আবদুল্লাহ, আলোচনা-সমালোচনা

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে তিন দফায় আটক ১২৯৪

কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাং এবং উঠতি বয়সী অপরাধীদের তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপকভিত্তিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। গত কয়েক দিনে জেলার ১৮টি থানা এলাকা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে অপরাধে জড়িত সন্দেহে মোট এক হাজার ২৯৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান বলে জানা গেছে। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোকে এই অভিযানের আওতায় আনা হয়। গত বুধবার পরিচালিত প্রথম দফার অভিযানে ছয় শতাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সপ্তাহ শেষে পরিচালিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার অভিযানে আরও কয়েকশ তরুণকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে তিন দফায় মোট এক হাজার ২৯৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অভিযানের পর আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিটি থানায় এনে তাদের বয়স, পরিচয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধের প্রমাণ মিলছে না, তাদের অভিভাবకుల জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে গ্যাং কালচার ও নানা অপরাধে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে পুলিশের এই বিশেষ অভিযানকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কুমিল্লার সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিন পর স্থানীয় পর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে এসেছে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। উঠতি বয়সীদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশ সবসময় বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

মাত্র ১৫ মিনিটের রক্তপরীক্ষায় জানা যাবে শিশুর জ্বরের আসল কারণ কী

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে তিন দফায় আটক ১২৯৪

প্রকাশিত ০৭:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাং এবং উঠতি বয়সী অপরাধীদের তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপকভিত্তিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। গত কয়েক দিনে জেলার ১৮টি থানা এলাকা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে অপরাধে জড়িত সন্দেহে মোট এক হাজার ২৯৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান বলে জানা গেছে। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোকে এই অভিযানের আওতায় আনা হয়। গত বুধবার পরিচালিত প্রথম দফার অভিযানে ছয় শতাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সপ্তাহ শেষে পরিচালিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার অভিযানে আরও কয়েকশ তরুণকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে তিন দফায় মোট এক হাজার ২৯৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অভিযানের পর আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিটি থানায় এনে তাদের বয়স, পরিচয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধের প্রমাণ মিলছে না, তাদের অভিভাবకుల জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে গ্যাং কালচার ও নানা অপরাধে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে পুলিশের এই বিশেষ অভিযানকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কুমিল্লার সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিন পর স্থানীয় পর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে এসেছে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। উঠতি বয়সীদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশ সবসময় বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।