রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় নকল মধু তৈরি করে আসছে একটি চক্র। একটি আবাসিক হোটেলের বাথরুমে বা টয়লেটে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চুলা বসিয়ে এই ভেজাল পণ্য উৎপাদন করা হতো। মাত্র দুই কেজি আসল মধুর সঙ্গে প্রায় ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে তা দিয়ে তৈরি করা হতো কয়েক গুণ বেশি পরিমাণ কথিত খাঁটি মধু।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অত্যন্ত সুকৌশলে পরিচালিত এই অবৈধ কারবারটি কোনো রকম বিরতিহীনভাবে দীর্ঘ আট বছর ধরে চলে আসছিল। চক্রটি অত্যন্ত সুচারুভাবে এই ভেজাল মধু বিভিন্ন লাভজনক বাজারে সরবরাহ করত বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা আসল ও নকল মধুর পার্থক্য বুঝতে না পেরে এই বিষাক্ত মিশ্রণ নিয়মিত কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন।
জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এমন কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে এই রমরমা ভেজাল ব্যবসার বিস্তার ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে জোরদার অভিযান চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভেজাল খাদ্যপণ্য মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং তা থেকে দীর্ঘমেয়াদী নানা জটিল রোগ হতে পারে। সাধারণ মানুষ যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পায়, সে জন্য বাজারে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।


































