ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo অপ্রতিম হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন  Logo ড. ইউনূসকে হয়রানি ও হেনস্তায় সাবেক ১২ উপদেষ্টার ক্ষোভ-নিন্দা Logo শরতের আবহে জাবিতে নবীনবরণ, নাট্যোৎসবে ‘বিধিবাম’ মঞ্চায়িত Logo দশ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় Logo ধর্মীয় ‘স্পর্শকাতর’ স্ট্যাটাস-মিম, জাবি শিক্ষার্থীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা প্রশাসনের Logo ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির Logo প্রজনন স্বাস্থ্যে নতুন প্রযুক্তির সূচনায় হাত মেলাল গুগল ও ফ্লো Logo ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান ২ ব্রিটিশ আইনজীবী Logo অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে সোবহানা-নিগারের লাফ Logo ওয়েলসে মিলল রোমান দুর্গ: সত্যি ছিল সম্রাটের ঘাঁটির উপাখ্যান

মেয়েকে কামড়ানো রাসেল ভাইপার বোতলে পুরে হাসপাতালে বাবা

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল নীলকমল ইউনিয়নের শেখকান্দি গ্রামে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের চার বছরের শিশুকন্যা মরিয়ম বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। খেলা শেষে ঘরে ফেরার পথে হঠাৎ করেই তার পায়ে আক্রমণ করে একটি বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ। সন্তানের চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্য ও আশেপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন।

পরিস্থিতি বুঝে ঘাবড়ে না গিয়ে শিশুটির বাবা মনির হোসেন এক চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি চারপাশের ঝোপঝাড় তল্লাশি করে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ওই সাপটিকে জীবিত অবস্থায় একটি প্লাস্টিকের বোতলে বন্দী করেন। ওঝা বা সাপুড়ের কাছে সময় নষ্ট না করে তিনি মেয়েকে কোলে তুলে নেন এবং এক হাতে বোতলবন্দী সাপ নিয়ে দ্রুত হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রওনা হন। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসায় সর্বাত্মক গুরুত্ব দেন। চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে মরিয়মকে সময়মতো অ্যান্টিভেনম ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যথাসময়ে হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে রাসেল ভাইপারের বিষের জটিলতার ঝুঁকি এড়াতে তাকে চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসিবুল হাসিব জানান, বাবা যেভাবে সাপটিকে নিরাপদে বোতলে বন্দী করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তাতে কোন সাপে কেটেছে তা শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। এর ফলে দ্রুত সঠিক প্রতিষেধক নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বাড়লেও কুসংস্কার এড়িয়ে সাধারণ মানুষ এখন চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

জনপ্রিয়

অপ্রতিম হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন 

মেয়েকে কামড়ানো রাসেল ভাইপার বোতলে পুরে হাসপাতালে বাবা

প্রকাশিত ০৮:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল নীলকমল ইউনিয়নের শেখকান্দি গ্রামে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের চার বছরের শিশুকন্যা মরিয়ম বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। খেলা শেষে ঘরে ফেরার পথে হঠাৎ করেই তার পায়ে আক্রমণ করে একটি বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ। সন্তানের চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্য ও আশেপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন।

পরিস্থিতি বুঝে ঘাবড়ে না গিয়ে শিশুটির বাবা মনির হোসেন এক চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি চারপাশের ঝোপঝাড় তল্লাশি করে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ওই সাপটিকে জীবিত অবস্থায় একটি প্লাস্টিকের বোতলে বন্দী করেন। ওঝা বা সাপুড়ের কাছে সময় নষ্ট না করে তিনি মেয়েকে কোলে তুলে নেন এবং এক হাতে বোতলবন্দী সাপ নিয়ে দ্রুত হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রওনা হন। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসায় সর্বাত্মক গুরুত্ব দেন। চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে মরিয়মকে সময়মতো অ্যান্টিভেনম ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যথাসময়ে হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে রাসেল ভাইপারের বিষের জটিলতার ঝুঁকি এড়াতে তাকে চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসিবুল হাসিব জানান, বাবা যেভাবে সাপটিকে নিরাপদে বোতলে বন্দী করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তাতে কোন সাপে কেটেছে তা শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। এর ফলে দ্রুত সঠিক প্রতিষেধক নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বাড়লেও কুসংস্কার এড়িয়ে সাধারণ মানুষ এখন চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।