রাজধানীর বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় সম্প্রতি এক অভিনব প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। দলটির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে চলমান বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানানো। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা দুটি বিশেষ ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ প্রদর্শন করেন। এসব বাক্সে চাঁদাবাজদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবিযুক্ত ব্যানার ও পোস্টার সাঁটানো ছিল, যাতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এনসিপির নেতা–কর্মীরা রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের নিচে সমবেত হয়ে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন। তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে তারা জোরালো দাবি জানান। পরে প্রতীকী দানবাক্স হাতে নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের কাঁচাবাজার, হাসপাতাল, যানবাহন খাত থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত চাঁদাবাজদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এমনকি চরের মধ্যে গবাদি পশুকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ঢাকা শহরে দিনদুপুরে অস্ত্র হাতে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে উল্লেখ করে তিনি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষ এই ধরনের মবতন্ত্র ও ত্রাসের রাজত্ব থেকে মুক্তি চায় বলে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান।
চাঁদাবাজি নির্মূলের উপায় হিসেবে দেশের প্রতিটি মোড়ে ও বিপণিবিতানে এমন প্রতীকী দানবাক্স স্থাপন করার আহ্বান জানান এনসিপি নেতারা। সংগৃহীত এই অর্থ থেকে চাঁদাবাজদের একধরনের ভিক্ষা বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তারা ব্যঙ্গাত্মকভাবে উল্লেখ করেন। হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন। দলটির শীর্ষ নেতারা জানান, ব্যবসায়ীরা দোকানে দোকানে এই বাক্স রাখলে সন্ত্রাসীরা আর সরাসরি চাঁদা আদায়ের সুযোগ পাবে না এবং দেশ থেকে এই অপসংস্কৃতি দূর হবে।





































