ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জার্মানিতে ভক্সওয়াগনের কারখানাকে ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর Logo এআই গবেষণায় একধাপ এগিয়ে গিগাবাইটের এআই টপ অ্যাটম Logo ব্যারিস্টার তুরিন আফেরোজের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগে ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন Logo ৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেক জনকে, বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা Logo এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হতে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল! Logo হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৪৯ Logo রাফিনিয়াকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ, ভারত ম্যাচে খেলছেন না ব্রাজিল তারকা Logo স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহৎ কানেক্টেড ইকোসিস্টেমে অনার Logo মেসিহীন আর্জেন্টিনার আক্রমণে নতুন চমক Logo ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই ঘরের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ, মায়ের প্রাণ গেলেও অক্ষত ৮ মাসের শিশু

নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির পর ২৭ প্যাকেট ফেরত

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা দুধ চুরির একটি অনভিপ্রেত ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে শিক্ষার্থীদের ৩০ প্যাকেট গুঁড়ো দুধ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কতিপয় যুবকের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অভিযুক্তরা ২৭ প্যাকেট দুধ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হন। বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাকি তিনটি প্যাকেট এরই মধ্যে খেয়ে ফেলেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় একটি নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আসেন। অতিথিদের বসার সুব্যবস্থা করা এবং তাঁদের আপ্যায়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। ঠিক সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে মো. নাদিম মাহমুদসহ তিনজন যুবক লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত প্যাকেটজাত দুধের মধ্য থেকে ৩০ প্যাকেট গোপনে নিয়ে যান তাঁরা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ আশা জানান, গত শুক্রবার অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততার সময় এই চুরির ঘটনা ঘটে যা পরবর্তীতে শিক্ষকদের নজরে আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত বুধবার সকালে অভিযুক্ত নাদিম ও তাঁর সহযোগীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে অব্যবহৃত ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে যান এবং বাকি তিনটি প্যাকেট খাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ দাবি করেছেন যে তাঁরা মূলত তিনটি প্যাকেটই নিয়েছিলেন এবং ৩০ প্যাকেট নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।

এদিকে পুরো ঘটনায় চরম প্রশাসনিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কারণ প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। নির্ধারিত নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঘটনাটি গোপন রাখায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর বা শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে এই বিষয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

জার্মানিতে ভক্সওয়াগনের কারখানাকে ইসরাইলি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর

নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির পর ২৭ প্যাকেট ফেরত

প্রকাশিত ০৩:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা দুধ চুরির একটি অনভিপ্রেত ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে শিক্ষার্থীদের ৩০ প্যাকেট গুঁড়ো দুধ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কতিপয় যুবকের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অভিযুক্তরা ২৭ প্যাকেট দুধ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হন। বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাকি তিনটি প্যাকেট এরই মধ্যে খেয়ে ফেলেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় একটি নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আসেন। অতিথিদের বসার সুব্যবস্থা করা এবং তাঁদের আপ্যায়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। ঠিক সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে মো. নাদিম মাহমুদসহ তিনজন যুবক লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত প্যাকেটজাত দুধের মধ্য থেকে ৩০ প্যাকেট গোপনে নিয়ে যান তাঁরা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ আশা জানান, গত শুক্রবার অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততার সময় এই চুরির ঘটনা ঘটে যা পরবর্তীতে শিক্ষকদের নজরে আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত বুধবার সকালে অভিযুক্ত নাদিম ও তাঁর সহযোগীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে অব্যবহৃত ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দিয়ে যান এবং বাকি তিনটি প্যাকেট খাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ দাবি করেছেন যে তাঁরা মূলত তিনটি প্যাকেটই নিয়েছিলেন এবং ৩০ প্যাকেট নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।

এদিকে পুরো ঘটনায় চরম প্রশাসনিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কারণ প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। নির্ধারিত নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঘটনাটি গোপন রাখায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর বা শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে এই বিষয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।