ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এআই গবেষণায় একধাপ এগিয়ে গিগাবাইটের এআই টপ অ্যাটম Logo ব্যারিস্টার তুরিন আফেরোজের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগে ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন Logo ৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেক জনকে, বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা Logo এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হতে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল! Logo হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৪৯ Logo রাফিনিয়াকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ, ভারত ম্যাচে খেলছেন না ব্রাজিল তারকা Logo স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহৎ কানেক্টেড ইকোসিস্টেমে অনার Logo মেসিহীন আর্জেন্টিনার আক্রমণে নতুন চমক Logo ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই ঘরের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ, মায়ের প্রাণ গেলেও অক্ষত ৮ মাসের শিশু Logo ৫০৬ কোটির ভুতুড়ে বিলের ঘটনায় জিএমসহ চারজন বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই ঘরের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ, মায়ের প্রাণ গেলেও অক্ষত ৮ মাসের শিশু

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হাজরাহাটি ভরকুল এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় দীপা রানী নামের এক চব্বিশ বছর বয়সী গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতে হঠাৎ কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই একটি বিশাল জোড়পাকড় গাছ উপড়ে একটি টিনের ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দেখেন যে গাছটির নিচে একটি পুরো পরিবার চাপা পড়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই ঘরের ভেতরে দীপা রানী, তাঁর স্বামী সজীব এবং তাঁদের আট মাসের কোলের শিশুসন্তান ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ গাছ ভেঙে পড়ার কারণে ঘরটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে সবাই আটকা পড়েন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধারকাজ শুরু হলে দীপা রানীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং তাঁর স্বামীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ওই আট মাসের শিশুটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও জীবত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও স্বজনেরা। গুরুতর আহত সজীবকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় আবহাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো ঝড় বা বাতাস বইছিল না, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। ধারণা করা হয় প্রায় আড়াইশ থেকে তিনশ বছরের পুরনো ওই গাছটির নিচে একটি কালীমন্দিরও ছিল। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুটি টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র এবং একটি মোটরসাইকেলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ফরহাদ হোসেন এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আকস্মিকভাবে পুত্রবধূকে হারিয়ে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অসহায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয়

এআই গবেষণায় একধাপ এগিয়ে গিগাবাইটের এআই টপ অ্যাটম

ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই ঘরের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ, মায়ের প্রাণ গেলেও অক্ষত ৮ মাসের শিশু

প্রকাশিত ০৪:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হাজরাহাটি ভরকুল এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় দীপা রানী নামের এক চব্বিশ বছর বয়সী গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতে হঠাৎ কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই একটি বিশাল জোড়পাকড় গাছ উপড়ে একটি টিনের ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দেখেন যে গাছটির নিচে একটি পুরো পরিবার চাপা পড়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই ঘরের ভেতরে দীপা রানী, তাঁর স্বামী সজীব এবং তাঁদের আট মাসের কোলের শিশুসন্তান ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ গাছ ভেঙে পড়ার কারণে ঘরটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে সবাই আটকা পড়েন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধারকাজ শুরু হলে দীপা রানীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং তাঁর স্বামীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ওই আট মাসের শিশুটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও জীবত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও স্বজনেরা। গুরুতর আহত সজীবকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় আবহাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো ঝড় বা বাতাস বইছিল না, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। ধারণা করা হয় প্রায় আড়াইশ থেকে তিনশ বছরের পুরনো ওই গাছটির নিচে একটি কালীমন্দিরও ছিল। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুটি টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র এবং একটি মোটরসাইকেলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ফরহাদ হোসেন এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আকস্মিকভাবে পুত্রবধূকে হারিয়ে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অসহায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।