রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় এক লোমহর্ষক চুরির ঘটনা ঘটেছে যেখানে জুয়েলার্স দোকানের মালিককে কৌশলে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণ, রৌপ্য ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। নিউ মুসলিম জুয়েলার্স নামক ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক শহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে এই অভিনব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তাঁরই দোকানের এক অসাধু কর্মচারী। পাংশার নারায়ণপুর শাখিনন্দ দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলার এই দোকানে সংঘটিত বড় ধরনের এই চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী দোকানমালিক পরবর্তীতে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দেয়।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই অপরাধের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য ও পরিকল্পনা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে পরদিন সকালের মধ্যে সংঘটিত এই ঘটনায় দোকানমালিক শহিদুল ইসলামকে পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার নাম করে জলিলপাড়া এলাকায় লিটনের বোনের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে মিষ্টি জাতীয় খাবার রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে গভীর ঘুমে বা অচেতনে আচ্ছন্ন করে ফেলা হয়। এরপর শহিদুলের পকেট থেকে জুয়েলার্সের গোপন চাবি হাতিয়ে নিয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন দ্রুত দোকানে ফিরে আসেন। দোকানে থাকা অপর এক কর্মচারী দীপকে নানা কৌশলে দূরে কোথাও খাবার আনতে পাঠিয়ে লিটন একা একা আলমারি খুলে সব মূল্যবান জিনিসপত্র ব্যাগে ভরে নেন।
সবকিছু লুটের পর অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে দোকানের চাবিগুলো পুনরায় অচেতন থাকা মালিকের পকেটেই রেখে দেওয়া হয় এবং তাঁকে দত্ত মার্কেটের মোড়ে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চোরচক্র পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, এই চুরির ঘটনায় সর্বমোট ২৫ ভরি স্বর্ণ, ২২০ ভরি রৌপ্য এবং নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার কাছাকাছি বলে হিসাব করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত লিটন ছাড়াও আরও অন্তত একজন জড়িত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক সহায়তার মাধ্যমে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পাংশা থানা-পুলিশ। সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানার মধ্যপাড়া এলাকায় সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত লিটনের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্য অনুযায়ী পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ১৫ ভরি ১ দশমিক ৫৮ আনা স্বর্ণ এবং সম্পূর্ণ ২২০ ভরি রৌপ্যের অলংকার উদ্ধার করতে পেরেছে। উদ্ধারকৃত এই সোনা ও রূপার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় বিয়াল্লিশ লাখ টাকার বেশি হবে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সমস্ত মালামাল যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান এবং তদন্ত বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।


































