ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাবিতে ‘ভূ-স্থানিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ১৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু Logo রাবি হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটি অ্যাসোসিয়েশন-এর ২য় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা  Logo বাকৃবি ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ১০দিন ব্যাপি কুরআন শিক্ষা কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত Logo নোবিপ্রবিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদল সভাপতির ইফতার Logo যবিপ্রবিতে ইকসাসের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কুবি বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ২৮ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান Logo পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দায়িত্ব হস্তান্তর Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo হাবিপ্রবিস্থ বৃহত্তর রাজশাহী ছাত্র কল্যাণ সমিতির ইফতার মাহফিল ও আহবায়ক কমিটি ঘোষণা Logo সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে

স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি রাস্তায় ফেলে আগুনে পোড়ালেন রিজভী

স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমের কেনা ভারতীয় শাড়ি পুড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদ জানালেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী। একইসঙ্গে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অনুষ্ঠানে রিজভী স্ত্রীর দেওয়া ভারতীয় শাড়িটি রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেন। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। ‘দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য’ ব্যানারে ভারতীয় পণ্য বর্জন ও দেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই এই অনুষ্ঠান।

সেখানে রিজভী বলেন, ‘যারা আমার দেশের পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে, আমরা তাদের দেশের পণ্য বর্জন করব। তাদের দেশের যে শাড়ি কিনতো আমাদের মা-বোন-স্ত্রীরা, তারা আর ভারতীয় শাড়ি, সাবান টুথপেস্টসহ কোনো কিছুই কিনবে না।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমার দেশ স্বনির্ভর। এখানে পেঁয়াজ হয়, যার ঝাঁজ ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতের মরিচের চেয়ে আমাদের মরিচের ঝাল অনেক বেশি। আমাদের যদি জায়গা না থাকে আমরা ছাদের ওপরে মরিচ লাগাব, বাড়ির উঠানের মধ্যে পেঁপে গাছ লাগাব। তবুও ভারতের মুখাপেক্ষী হবো না, তাদের পণ্য বর্জন করব।’

ভারতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা কী দেবেন আমার তার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকব, এটা ভাবার কারণ নাই। এটা হাসিনার মতো লোক করতে পারে, কোটি কোটি বাংলাদেশের মানুষ করবে না।’

দেশের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভারত যে বাংলাদেশ লুণ্ঠনের চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশের পতাকা পুড়িয়েছে, আমাদের মর্যাদাহানি করার চেষ্টা করেছে, আমরা ভারতের পতাকাকে লাঞ্ছিত করব না। আমরা আরেকটা স্বাধীন দেশের মর্যাদাকে ছোট করব না। প্রত্যেক জাতির যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, সেটিকে আমরা অসম্মান করব না, ওদের মতো ছোটলোকি করব না। আমরা ওদের দেশের পতাকাকে সম্মান করব, কিন্তু ওদের পণ্য বর্জন করব।’

ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, ‘তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছো, তোমরা আমাদেরকে পছন্দ করো না। তারপরও তোমাদের জিনিস আমাদের কিনতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ তো মাথানত করার মানুষ না। আমরা একবেলা খেয়ে থাকব, তারপরও মাথানত করবো না।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের অনেক সাংবাদিক, অনেক রাজনৈতিক নেতা বলেন, সেখানে না গেলে নাকি বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসা হয় না। আমি প্রশ্ন করি, আপনারা কি বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেন? আপনারা কি বিনা টাকায় এক কাপ চা খাওয়ান? এই নজির তো নাই আপনাদের।’

রিজভী বলেন, ‘ভারত নিষ্ঠুর হাসিনাকে পছন্দ করে, বাংলাদেশের মানুষকে পছন্দ করে না। বাংলাদেশ টিকে থাকুক এটা তারা চায় না। আজকে তারা নানা ধরনের উস্কানি দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে, বাংলাদেশের ভেতরে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাদের উস্কানিতে পা দেয়নি। দুই-একটা গোষ্ঠী থাকতে পারে, তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে, তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ যে আমাদের এখানে উস্কানি দিতে পারে, এটা গোটা জাতি ধরে ফেলেছে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর যে ঐক্য এটা ইস্পাতকঠিন। এই ঐক্যকে কেউ ভাঙতে পারবে না।’

ভারতীয় পণ্য বর্জনের এই অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জাহিদুল কবির, জাহাঙ্গীর আলম, তৌহিদুর রহমান আউয়ালও বক্তব্য দেন।

জনপ্রিয়

জাবিতে ‘ভূ-স্থানিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ১৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি রাস্তায় ফেলে আগুনে পোড়ালেন রিজভী

প্রকাশিত ১২:০৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪

স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমের কেনা ভারতীয় শাড়ি পুড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদ জানালেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী। একইসঙ্গে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অনুষ্ঠানে রিজভী স্ত্রীর দেওয়া ভারতীয় শাড়িটি রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেন। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। ‘দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য’ ব্যানারে ভারতীয় পণ্য বর্জন ও দেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই এই অনুষ্ঠান।

সেখানে রিজভী বলেন, ‘যারা আমার দেশের পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে, আমরা তাদের দেশের পণ্য বর্জন করব। তাদের দেশের যে শাড়ি কিনতো আমাদের মা-বোন-স্ত্রীরা, তারা আর ভারতীয় শাড়ি, সাবান টুথপেস্টসহ কোনো কিছুই কিনবে না।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমার দেশ স্বনির্ভর। এখানে পেঁয়াজ হয়, যার ঝাঁজ ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতের মরিচের চেয়ে আমাদের মরিচের ঝাল অনেক বেশি। আমাদের যদি জায়গা না থাকে আমরা ছাদের ওপরে মরিচ লাগাব, বাড়ির উঠানের মধ্যে পেঁপে গাছ লাগাব। তবুও ভারতের মুখাপেক্ষী হবো না, তাদের পণ্য বর্জন করব।’

ভারতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা কী দেবেন আমার তার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকব, এটা ভাবার কারণ নাই। এটা হাসিনার মতো লোক করতে পারে, কোটি কোটি বাংলাদেশের মানুষ করবে না।’

দেশের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভারত যে বাংলাদেশ লুণ্ঠনের চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশের পতাকা পুড়িয়েছে, আমাদের মর্যাদাহানি করার চেষ্টা করেছে, আমরা ভারতের পতাকাকে লাঞ্ছিত করব না। আমরা আরেকটা স্বাধীন দেশের মর্যাদাকে ছোট করব না। প্রত্যেক জাতির যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, সেটিকে আমরা অসম্মান করব না, ওদের মতো ছোটলোকি করব না। আমরা ওদের দেশের পতাকাকে সম্মান করব, কিন্তু ওদের পণ্য বর্জন করব।’

ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, ‘তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছো, তোমরা আমাদেরকে পছন্দ করো না। তারপরও তোমাদের জিনিস আমাদের কিনতে হবে? বাংলাদেশের মানুষ তো মাথানত করার মানুষ না। আমরা একবেলা খেয়ে থাকব, তারপরও মাথানত করবো না।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের অনেক সাংবাদিক, অনেক রাজনৈতিক নেতা বলেন, সেখানে না গেলে নাকি বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসা হয় না। আমি প্রশ্ন করি, আপনারা কি বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেন? আপনারা কি বিনা টাকায় এক কাপ চা খাওয়ান? এই নজির তো নাই আপনাদের।’

রিজভী বলেন, ‘ভারত নিষ্ঠুর হাসিনাকে পছন্দ করে, বাংলাদেশের মানুষকে পছন্দ করে না। বাংলাদেশ টিকে থাকুক এটা তারা চায় না। আজকে তারা নানা ধরনের উস্কানি দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে, বাংলাদেশের ভেতরে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাদের উস্কানিতে পা দেয়নি। দুই-একটা গোষ্ঠী থাকতে পারে, তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে, তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ যে আমাদের এখানে উস্কানি দিতে পারে, এটা গোটা জাতি ধরে ফেলেছে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর যে ঐক্য এটা ইস্পাতকঠিন। এই ঐক্যকে কেউ ভাঙতে পারবে না।’

ভারতীয় পণ্য বর্জনের এই অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জাহিদুল কবির, জাহাঙ্গীর আলম, তৌহিদুর রহমান আউয়ালও বক্তব্য দেন।