ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত, পড়ার নিয়ম কী

ইসলাম ধর্মে নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ অন্যতম সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নির্ধারিত হওয়ার আগে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য এই নামাজ আদায় করা বিশেষভাবে বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি নিজে যেমন নিয়মিত এই ইবাদত পালন করতেন, তেমনি কোনো কারণে ছুটে গেলে দিনে তা কাজা করে নিতেন এবং সাহাবিদেরও এটি নিয়মিত আদায়ের জোরালো তাগিদ দিতেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ হলো অতীতের সৎকর্মশীল ও নেককার বান্দাদের একটি বিশেষ আমল, যা মানুষকে অন্যায় ও পাপকাজ থেকে দূরে রাখে এবং বিভিন্ন শারীরিক রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

সাধারণত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে এই নামাজ কত রাকাত পড়া উচিত তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল কাজ করে থাকে। নির্ভরযোগ্য হাদিসের তথ্য অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ সর্বনিম্ন দুই রাকাত থেকে শুরু করে সর্বমোট কুড়ি রাকাত পর্যন্ত পড়ার বিধান ও বর্ণনা পাওয়া যায়। মহানবী সা. পরিস্থিতি ভেদে কখনো চার রাকাত, কখনো আট রাকাত আবার কখনো বারো রাকাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সা. সাধারণত সারা বছর নিয়মিতভাবে আট রাকাত করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন।

মুসলমানদের জন্য সময় ও সুযোগের ওপর ভিত্তি করে এই নামাজ আদায়ের পরিধি নির্ধারণ করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত সময় থাকলে বারো রাকাত বা আট রাকাত আদায় করা অত্যন্ত উত্তম, তবে ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে অন্তত চার রাকাত পড়া উচিত। এরপরও যদি কারও শারীরিক দুর্বলতা বা সময়ের চরম সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে তিনি কমপক্ষে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেও তাহাজ্জুদ আদায়ের পূর্ণ সওয়াব ও নেকি লাভ করতে পারবেন। এই নামাজ দুই রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে আদায় করাই সুন্নাহসম্মত এবং সবচেয়ে বেশি উত্তম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা বিশেষ সুরার বাধ্যবাধকতা নেই, যেকোনো সুরা দিয়েই এই নামাজ পড়া যায়। তবে নবী করিম সা. এই নামাজে দীর্ঘ কেরাত পড়তে পছন্দ করতেন এবং রুকু-সেজদাসহ অন্যান্য রুকনগুলো দীর্ঘায়িত করতেন। বিশেষ করে সিজদায় অবনত হয়ে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন কল্যাণকর দোয়া পাঠ করার বিশেষ নির্দেশনা ও অনন্য মর্যাদা রয়েছে যা মুমিন বান্দার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ বয়ে আনে।

জনপ্রিয়

ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল রাষ্ট্র, গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: সিআইএ–এর প্রতিবেদন

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত, পড়ার নিয়ম কী

প্রকাশিত ০৭:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ইসলাম ধর্মে নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ অন্যতম সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নির্ধারিত হওয়ার আগে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য এই নামাজ আদায় করা বিশেষভাবে বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি নিজে যেমন নিয়মিত এই ইবাদত পালন করতেন, তেমনি কোনো কারণে ছুটে গেলে দিনে তা কাজা করে নিতেন এবং সাহাবিদেরও এটি নিয়মিত আদায়ের জোরালো তাগিদ দিতেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ হলো অতীতের সৎকর্মশীল ও নেককার বান্দাদের একটি বিশেষ আমল, যা মানুষকে অন্যায় ও পাপকাজ থেকে দূরে রাখে এবং বিভিন্ন শারীরিক রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

সাধারণত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে এই নামাজ কত রাকাত পড়া উচিত তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল কাজ করে থাকে। নির্ভরযোগ্য হাদিসের তথ্য অনুযায়ী, তাহাজ্জুদ নামাজ সর্বনিম্ন দুই রাকাত থেকে শুরু করে সর্বমোট কুড়ি রাকাত পর্যন্ত পড়ার বিধান ও বর্ণনা পাওয়া যায়। মহানবী সা. পরিস্থিতি ভেদে কখনো চার রাকাত, কখনো আট রাকাত আবার কখনো বারো রাকাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সা. সাধারণত সারা বছর নিয়মিতভাবে আট রাকাত করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন।

মুসলমানদের জন্য সময় ও সুযোগের ওপর ভিত্তি করে এই নামাজ আদায়ের পরিধি নির্ধারণ করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত সময় থাকলে বারো রাকাত বা আট রাকাত আদায় করা অত্যন্ত উত্তম, তবে ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে অন্তত চার রাকাত পড়া উচিত। এরপরও যদি কারও শারীরিক দুর্বলতা বা সময়ের চরম সীমাবদ্ধতা থাকে, তবে তিনি কমপক্ষে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেও তাহাজ্জুদ আদায়ের পূর্ণ সওয়াব ও নেকি লাভ করতে পারবেন। এই নামাজ দুই রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে আদায় করাই সুন্নাহসম্মত এবং সবচেয়ে বেশি উত্তম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা বিশেষ সুরার বাধ্যবাধকতা নেই, যেকোনো সুরা দিয়েই এই নামাজ পড়া যায়। তবে নবী করিম সা. এই নামাজে দীর্ঘ কেরাত পড়তে পছন্দ করতেন এবং রুকু-সেজদাসহ অন্যান্য রুকনগুলো দীর্ঘায়িত করতেন। বিশেষ করে সিজদায় অবনত হয়ে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন কল্যাণকর দোয়া পাঠ করার বিশেষ নির্দেশনা ও অনন্য মর্যাদা রয়েছে যা মুমিন বান্দার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ বয়ে আনে।