ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘আদালতে পা দিলেই মনে হয় এ বুঝি ভবন ধসে পড়বে’ Logo কাঁচি থেকে ওয়াশিং পাউডারের বোতল, এই জাদুঘরের প্রতিটি স্মারকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নোবেলজয়ীদের গল্প Logo চ্যাটজিপিটির গণিত গবেষণা নিয়ে বিতর্ক, ওপেনএআই বয়কটের ডাক Logo গণভোটকে অস্বীকার করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিএনপি: মামুনুল হক Logo আগামী মাসেই শুরু হবে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন: গভর্নর Logo বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর Logo নতুন করে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন? Logo এনসিপির আলোচনা সভা: সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে Logo মাহফিলের নামে সরকারের বিরোধিতা করলে মেনে নেওয়া হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

এনসিপির আলোচনা সভা: সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে

রাজনীতি ডেস্ক: সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী ও গবেষকেরা সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা বলেন, আইনের খসড়ায় থাকা অস্পষ্ট বিধানগুলো নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে। অতীতে একই ধরনের আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, যার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থেকে সরকারের এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস জানান, অনলাইনে অপরাধ দমনের অজুহাতে প্রণীত সংশোধনীতে অনেক বিষয়ের সংজ্ঞা অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। গুজবের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা এবং তা যাচাইয়ের নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া না থাকলে সাধারণ নাগরিক ও সত্য প্রকাশকারীরা আইনি হয়রানির শিকার হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান সাধারণ আইন দিয়েই অনেক সাইবার অপরাধ দমন করা সম্ভব, ফলে নতুন সংশোধনীতে বাক্‌স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার ঝুঁকিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। স্বাধীন তদন্তের সুযোগ না রাখলে এই আইন কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথ আরও সহজ করে তুলবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সভায় এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে অসংখ্য মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছিল। বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীতেও অপরাধের ক্ষেত্রকে ব্যাপক ও অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যা আবারও ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে পারে। তিনি সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে বলেন, একপক্ষীয়ভাবে সংবিধান সংশোধন বা বিতর্কিত আইন প্রণয়ন করা হলে তা জাতীয় ঐকমত্যের পরিপন্থী হবে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়মের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান না করে সরকার সাইবার আইনের দিকে বেশি মনযোগ দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু তাঁর বক্তব্যে বলেন, অতীতে যেসব দমনপীড়নমূলক আইন ও সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল, পরবর্তীতে সেগুলোই তৎকালীন বিরোধী দলের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল। তাই বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন কোনো আইন সমর্থন না করা যা ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার হতে পারে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশগুলোর বেশ কিছু ধারা বদল করে বর্তমান প্রশাসন নিজেদের মতো করে নির্বাহী ক্ষমতা বাড়িয়ে নিচ্ছে। নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর মন্তব্য করেন, এই ধরনের আইন প্রণয়নের পেছনে সরকারের এক ধরণের অহমিকা কাজ করছে, যা জনগণের গণতান্ত্রিক aspirations বা আকাক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জনপ্রিয়

‘আদালতে পা দিলেই মনে হয় এ বুঝি ভবন ধসে পড়বে’

এনসিপির আলোচনা সভা: সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে

প্রকাশিত ০২:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী ও গবেষকেরা সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা বলেন, আইনের খসড়ায় থাকা অস্পষ্ট বিধানগুলো নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে। অতীতে একই ধরনের আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, যার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থেকে সরকারের এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস জানান, অনলাইনে অপরাধ দমনের অজুহাতে প্রণীত সংশোধনীতে অনেক বিষয়ের সংজ্ঞা অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। গুজবের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা এবং তা যাচাইয়ের নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া না থাকলে সাধারণ নাগরিক ও সত্য প্রকাশকারীরা আইনি হয়রানির শিকার হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান সাধারণ আইন দিয়েই অনেক সাইবার অপরাধ দমন করা সম্ভব, ফলে নতুন সংশোধনীতে বাক্‌স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার ঝুঁকিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। স্বাধীন তদন্তের সুযোগ না রাখলে এই আইন কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথ আরও সহজ করে তুলবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সভায় এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে অসংখ্য মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছিল। বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীতেও অপরাধের ক্ষেত্রকে ব্যাপক ও অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যা আবারও ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে পারে। তিনি সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে বলেন, একপক্ষীয়ভাবে সংবিধান সংশোধন বা বিতর্কিত আইন প্রণয়ন করা হলে তা জাতীয় ঐকমত্যের পরিপন্থী হবে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়মের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান না করে সরকার সাইবার আইনের দিকে বেশি মনযোগ দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু তাঁর বক্তব্যে বলেন, অতীতে যেসব দমনপীড়নমূলক আইন ও সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল, পরবর্তীতে সেগুলোই তৎকালীন বিরোধী দলের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল। তাই বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন কোনো আইন সমর্থন না করা যা ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার হতে পারে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশগুলোর বেশ কিছু ধারা বদল করে বর্তমান প্রশাসন নিজেদের মতো করে নির্বাহী ক্ষমতা বাড়িয়ে নিচ্ছে। নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর মন্তব্য করেন, এই ধরনের আইন প্রণয়নের পেছনে সরকারের এক ধরণের অহমিকা কাজ করছে, যা জনগণের গণতান্ত্রিক aspirations বা আকাক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।