রাজনীতি ডেস্ক: বিএনপি তড়িঘড়ি করে শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠন করার মাধ্যমে জাতির সঙ্গে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সম্প্রতি হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ ভোটারের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পেছনে ফেলে এবং গণভোটের রায়কে সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে দলটির সামান্য সময়ও লাগেনি। এই ধরনের রাজনৈতিক আচরণ দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে তিনি দৃঢ় মত প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন এবং তাদের নানা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন খেলাফত মজলিসের এই শীর্ষ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পথ যদি এখনো বন্ধ করা না হয় এবং দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও মাস্তানি যদি থামানো না হয়, তবে জনগণের সংগ্রাম থামবে না। এছাড়া দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ কোনো বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় এই আন্দোলন আরও তীব্র ও বেগবান হবে।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত না দিলে এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ না করলে অনেকের পক্ষেই বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হতো না। সংবিধান সংস্কারের যে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে বিচ্যুত হলে বিএনপিকে জাতি বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে বলে তিনি সতর্ক করেন। নতুন করে দেশে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের উত্থান যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই তাদের এই ধারাবাহিক নাগরিক সমাবেশ চলছে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন না হলে ক্ষমতার মোহে যে কেউ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই ইসলামী বক্তা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা চলতে থাকলে ক্ষমতায় যেই বসুক না কেন, কয়েক বছরের মধ্যে সে নতুন এক হাসিনায় রূপান্তরিত হবে। বিএনপি কিংবা তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব যাতে সেই পথে না হাঁটে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ সৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের মসনদে টিকতে দেওয়া হবে না।
হবিগঞ্জ জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা নোমান আহমদ সাদিকের পরিচালনায় ওই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহসহ দলের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। নাগরিক সমাবেশে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।




































