অর্থনীতি ডেস্ক: বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ওমানের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ওমানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই বৈঠকে ওমানের সঙ্গে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য ওমান বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত অনুরূপ চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গেও সিইপিএ চুক্তি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী এই ইতিবাচক প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সাপেক্ষে কারিগরি প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।
বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এফবিসিসিআই এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে একটি ‘বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে ভার্চ্যুয়াল সভার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ওমানের রাষ্ট্রদূত দেশটির বিভিন্ন বন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
ওমান প্রবাসী প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি কর্মী দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দরের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা সম্ভব। বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার মাধ্যমেই এই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া যাবে। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই অংশীদারত্ব জোরদার করার মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেশি সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


































