ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব ব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ, অপেক্ষা করার কথা বললেন অর্থমন্ত্রী

অর্থনীতি ডেস্ক: বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ব্যাংক থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়ে চলা আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই ঋণ পাওয়ার বিষয়ে সেখানে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে না এবং এ সংক্রান্ত সংবাদগুলো সঠিক নয়। অর্থমন্ত্রীর মতে, এটি কেবল একটি প্রাথমিক আলোচনা এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা অনশুলা কান্তের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান যে, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। বর্তমান সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক নীতিগুলোর সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংক একমত পোষণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক সংকটের বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে আইএমএফের সম্প্রতি প্রকাশিত অক্টোবর ২০২৬ এর পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশে নামতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস নিয়ে কোনো বিতর্কে জড়াতে নারাজ অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থার এই হিসাব নিয়ে তর্কে যাওয়ার কোনো আবশ্যকতা নেই এবং সরকার নিজস্ব লক্ষ্য অর্জনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ঋণ পাওয়ার বিষয়টি দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট নীতিগত সংস্কার এবং শর্ত পূরণের মাধ্যমেই এই সহায়তা চূড়ান্ত হবে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার তাদের বাজেট ও নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্যগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

জনপ্রিয়

৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ ভবন থেকে বের করে আনা হলো চুয়েট উপাচার্যকে

বিশ্ব ব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ, অপেক্ষা করার কথা বললেন অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত ০৬:৫২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ব্যাংক থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়ে চলা আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই ঋণ পাওয়ার বিষয়ে সেখানে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে না এবং এ সংক্রান্ত সংবাদগুলো সঠিক নয়। অর্থমন্ত্রীর মতে, এটি কেবল একটি প্রাথমিক আলোচনা এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা অনশুলা কান্তের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান যে, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। বর্তমান সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক নীতিগুলোর সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংক একমত পোষণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক সংকটের বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে আইএমএফের সম্প্রতি প্রকাশিত অক্টোবর ২০২৬ এর পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশে নামতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস নিয়ে কোনো বিতর্কে জড়াতে নারাজ অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থার এই হিসাব নিয়ে তর্কে যাওয়ার কোনো আবশ্যকতা নেই এবং সরকার নিজস্ব লক্ষ্য অর্জনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ঋণ পাওয়ার বিষয়টি দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট নীতিগত সংস্কার এবং শর্ত পূরণের মাধ্যমেই এই সহায়তা চূড়ান্ত হবে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার তাদের বাজেট ও নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্যগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।