সাহিত্য ডেস্ক: সম্প্রতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান। রাজধানী ইস্কাটন গার্ডেনের কাজল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পরিষদের ৭২তম সাহিত্যসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘অসাম্প্রদায়িক রবীন্দ্রনাথকে মুছে ফেলা যাবে না’ শীর্ষক এই আয়োজনে বক্তারা রবীন্দ্রনাথের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা মনে করেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা বাঙালি সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে কবি মোহন রায়হান উল্লেখ করেন যে, ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। এই অপশক্তি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়মিত টার্গেট করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপন করার ঘটনাকে তিনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির একটি গভীর পাঁয়তারা হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর ঠিক এই কারণেই এবারের সাহিত্যসভার শিরোনাম বিশেষভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইতিহাস ও সমাজবাস্তবতার আলোকে রবীন্দ্রনাথের সৃজনকর্মের গভীর গুরুত্ব তুলে ধরে কবি মতিন বৈরাগী জানান যে, বিশ্বকবি আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং তাকে বাদ দিয়ে দৈনন্দিন জীবন ভাবাই যায় না। জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, রবীন্দ্রনাথ এতটাই শক্তিশালী যে তাকে ধ্বংসের চেষ্টা যত বাড়বে, তিনি ততই নতুনরূপে আবির্ভূত হবেন। এছাড়া কলকাতা থেকে আগত কবি মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চলছে।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সাহিত্যসভাটি পরিচালনা করেন কবি নাহিদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবদুল ওয়াদুদ। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবিরা তাদের নিজস্ব রচনা থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন। সার্বিক আলোচনায় বক্তারা জানান, এসব অপশক্তি ও ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বিপ্লব গড়ে তোলা প্রয়োজন।





































