ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ‘স্পষ্ট’: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Logo ১৩-০ গোলে জয়ের একদিন পর কোচ বরখাস্ত Logo প্যারিস রিভিউ-এর সাথে নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের আলাপচারিতা Logo কারাগারে মায়ের সঙ্গে ৩০৩ শিশু, সবচেয়ে বেশি কাশিমপুরে, পুনর্বাসনের সুপারিশ Logo সৌদি আরব ভ্রমণে একাধিক দেশের সতর্কতা Logo দীর্ঘ ছুটি বিচার নিষ্পত্তিতে বাধা: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo কন্যাশিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo চুয়েট ভিসিকে ‘গুন্ডা ও নির্লজ্জ’ বললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ Logo ঢাকা উদ্যানে পাওয়া সেই ভ্যানিটি ব্যাগে মিলল ৯ হাতবোমা Logo সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশিরা কে কোন হাসপাতালে

প্যারিস রিভিউ-এর সাথে নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের আলাপচারিতা

সাহিত্য ডেস্ক: সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী কানাডার বিশিষ্ট লেখক অ্যান কারসনের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার সম্প্রতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। উইল এইটকেনকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি মূলত সাহিত্য পত্রিকা দ্য প্যারিস রিভিউ-এর শরৎ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং বাংলায় তা অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন। দীর্ঘ এই আলাপচারিতায় কারসন তাঁর সাহিত্যকর্ম, ব্যক্তিগত কবিতা এবং লেখার পেছনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। টরন্টোতে জন্ম নেওয়া এই লেখক মূলত কবি হলেও প্রবন্ধ রচনা এবং অনুবাদেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

সাক্ষাৎকারের শুরুতে কারসনের ‘স্টাঞ্জাস, সেক্সেস, সিডাকশন্স’ কবিতার একটি পঙ্‌ক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত কবিতাকে ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে কারসন জানান যে, বিভিন্ন কবিতায় ব্যক্তিসত্তার ভিন্ন মাত্রা থাকে এবং তিনি নিজের লেখার গভীরে থাকা সত্য পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি বলে একে ব্যর্থতা মনে করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, তার আবেগগত বাস্তবতার বহিরাবরণ পাঠকদের মনে চিন্তার খোরাক জোগায় এবং তাদের গভীর অনুভূতির মুখোমুখি করে।

আলাপচারিতায় তাঁর আরেকটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘আমি অসহনীয় হতে চাই’ বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। কারসন ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষের ওপর তাঁর যে প্রভাব রয়েছে বা তিনি যে প্রভাব ফেলতে চান, এই বাক্যটি তারই একটি রূপক প্রকাশ মাত্র। এই অসহনীয় হওয়ার অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, এটি পাঠকদের এমন এক প্রান্তসীমায় নিয়ে যায় যেখানে তারা লেখার প্রতি যেমন আকৃষ্ট হয়, তেমনই এক অজানা সত্যের ভয়ে ভীতও হয়।

কথোপকথনের একপর্যায়ে বক্সিং ক্লাস এবং ছায়া যুদ্ধের প্রসঙ্গও মজার ছলে উঠে আসে, যা তাঁর ভেতরের নানা অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আলোচিত হয়। কারসন উল্লেখ করেন যে তাঁর মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতিটি অনেকটা পেছন থেকে আসা তীব্র আলোর মতো, যা সাধারণ মানুষের মনে রহস্য ও ভয়ের পাশাপাশি এক ধরনের শিশুসুলভ আকর্ষণ তৈরি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান কারসনের মতো একজন বহুমুখী প্রতিভাবান সাহিত্যিকের এই ধরনের সাক্ষাৎকার তাঁর সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং মানসিক জগতকে বুঝতে পাঠকদের দারুণভাবে সহায়তা করে। সাহিত্যপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে তাঁর এই আত্মকথন এক অমূল্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

জনপ্রিয়

ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ‘স্পষ্ট’: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্যারিস রিভিউ-এর সাথে নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের আলাপচারিতা

প্রকাশিত ০৯:৫২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সাহিত্য ডেস্ক: সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী কানাডার বিশিষ্ট লেখক অ্যান কারসনের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার সম্প্রতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। উইল এইটকেনকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি মূলত সাহিত্য পত্রিকা দ্য প্যারিস রিভিউ-এর শরৎ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং বাংলায় তা অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন। দীর্ঘ এই আলাপচারিতায় কারসন তাঁর সাহিত্যকর্ম, ব্যক্তিগত কবিতা এবং লেখার পেছনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। টরন্টোতে জন্ম নেওয়া এই লেখক মূলত কবি হলেও প্রবন্ধ রচনা এবং অনুবাদেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

সাক্ষাৎকারের শুরুতে কারসনের ‘স্টাঞ্জাস, সেক্সেস, সিডাকশন্স’ কবিতার একটি পঙ্‌ক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত কবিতাকে ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে কারসন জানান যে, বিভিন্ন কবিতায় ব্যক্তিসত্তার ভিন্ন মাত্রা থাকে এবং তিনি নিজের লেখার গভীরে থাকা সত্য পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি বলে একে ব্যর্থতা মনে করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, তার আবেগগত বাস্তবতার বহিরাবরণ পাঠকদের মনে চিন্তার খোরাক জোগায় এবং তাদের গভীর অনুভূতির মুখোমুখি করে।

আলাপচারিতায় তাঁর আরেকটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘আমি অসহনীয় হতে চাই’ বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। কারসন ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষের ওপর তাঁর যে প্রভাব রয়েছে বা তিনি যে প্রভাব ফেলতে চান, এই বাক্যটি তারই একটি রূপক প্রকাশ মাত্র। এই অসহনীয় হওয়ার অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, এটি পাঠকদের এমন এক প্রান্তসীমায় নিয়ে যায় যেখানে তারা লেখার প্রতি যেমন আকৃষ্ট হয়, তেমনই এক অজানা সত্যের ভয়ে ভীতও হয়।

কথোপকথনের একপর্যায়ে বক্সিং ক্লাস এবং ছায়া যুদ্ধের প্রসঙ্গও মজার ছলে উঠে আসে, যা তাঁর ভেতরের নানা অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আলোচিত হয়। কারসন উল্লেখ করেন যে তাঁর মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতিটি অনেকটা পেছন থেকে আসা তীব্র আলোর মতো, যা সাধারণ মানুষের মনে রহস্য ও ভয়ের পাশাপাশি এক ধরনের শিশুসুলভ আকর্ষণ তৈরি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান কারসনের মতো একজন বহুমুখী প্রতিভাবান সাহিত্যিকের এই ধরনের সাক্ষাৎকার তাঁর সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং মানসিক জগতকে বুঝতে পাঠকদের দারুণভাবে সহায়তা করে। সাহিত্যপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে তাঁর এই আত্মকথন এক অমূল্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।