ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষের স্বাধীন সম্মতি থাকা অপরিহার্য। ইসলামে কাউকে জোরপূর্বক বা অনিচ্ছায় বিয়েতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বিধবা বা কুমারী নারীর মতামত বা অনুমতি ছাড়া তাদের বিয়ে দেওয়া যাবে না। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কুমারী নারীর নীরবতাকে তার অনুমতি হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ভয়, মানসিক চাপ কিংবা জবরদস্তির মুখে বজায় থাকা নীরবতাকে কখনোই স্বেচ্ছায় দেওয়া সম্মতি বলা যাবে না।
হানাফি ফিকহের বিধান অনুযায়ী, বিয়ের মূল শর্ত হলো শরিয়তসম্মত উপায়ে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হওয়া এবং সেই সময় প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি থাকা। ইজাব হলো বিয়ের প্রস্তাব এবং কবুল হলো সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা, যার মাধ্যমে মূলত দাম্পত্য চুক্তি সম্পন্ন হয়। সুতরাং, কেবল কিছু কাগজে স্বাক্ষর করাকে সর্বাবস্থায় ইজাব ও কবুলের বিকল্প হিসেবে গণ্য করা যায় না। কেউ যদি বিয়েতে কোনো প্রকার সম্মতি না দিয়ে কেবল কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন, তবে শুধু ওই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে বিয়ে বৈধ হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া ভুল হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে ভয় দেখিয়ে, প্রতারণা করে বা জবরদস্তি করে স্বাক্ষর আদায় করা হলে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কাগজে স্বাক্ষর থাকা আর স্বেচ্ছায় সম্মতি প্রদান করা কস্মিনকালেও এক নয়। স্পষ্ট ভাষায় অসম্মতি জানানোর পরেও যদি কাউকে বাধ্য করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, তবে তাকে বিয়ের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না। ইসলামী আইন অনুযায়ী কাবিননামায় স্বাক্ষর বিয়ের একমাত্র শর্ত নয়, বরং শরিয়তের নিয়মে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে স্বাক্ষর ছাড়াও বিয়ে বৈধ হয়। বিপরীতভাবে, কেবল কাগজে স্বাক্ষর থাকলেই বিয়ের সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
ইসলামবিষয়ক গবেষক ও মুহাদ্দিস মুফতি ফয়জুল্লাহ রিয়াদ এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে কাবিননামা কেবল একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল মাত্র। শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধতার মূল বিষয় হলো চুক্তিটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীর উচিত প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং আইনি পরামর্শ নেওয়া। এ ছাড়া সঠিক শরয়ি বিধান জানার জন্য পুরো বিষয়টি কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতিকে জানানো উচিত। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে নিজ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া অনুচিত।







































