ধর্ম ডেস্ক: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে সম্পূর্ণ নারীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সমাজে নানা কুসংস্কার ও বৈষম্যের শিকার হয়ে নারীরা সংগঠিত হয়ে ‘উজ্জয়িনী’ নামের একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এই সংগঠনের মাধ্যমেই টানা এক দশক ধরে এই ব্যতিক্রমী পূজার আয়োজন করে আসছেন তারা।
পূজামণ্ডপের চাঁদা সংগ্রহ, বাজারঘাট করা থেকে শুরু করে ঢাক বাজানোর মতো সব কাজই নারীরা নিজেদের দায়িত্বে সম্পন্ন করেন। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলায় যতগুলো পূজামণ্ডপ রয়েছে, তার মধ্যে এটিই একমাত্র মণ্ডপ যেখানে নারীরা আয়োজকের ভূমিকায় রয়েছেন।
সংগঠনটির সূচনার পেছনে রয়েছে সমাজে টিকে থাকার ও অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ২০০২ সালে উচ্চশিক্ষার বাধা এবং নানা সামাজিক বিধিনিষেধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে চারজন নারী মিলে ‘উজ্জয়িনী’ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তারা প্রথম নিজেদের উদ্যোগে দুর্গাপূজার আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং এরপর থেকে প্রতিবছরই এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন।
পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি জানিয়েছেন, শুরুতে সমাজের অনেকে এই উদ্যোগকে বাঁকা চোখে দেখলেও বর্তমানে সবাই তাদের সহযোগিতা করছেন। এই আয়োজনে কেবল একজন পুরুষ পুরোহিত পূজা পরিচালনা করেন এবং বাকি সব কার্যক্রম নারীরাই নিয়ন্ত্রণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা নারীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, এই পূজার মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় উৎসবই পালিত হচ্ছে না, বরং এটি সমাজে নারীদের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।





































