ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

এআইয়ের যুগে ক্যারিয়ার গড়তে শুরুতেই যেসব দক্ষতায় জোর দিতে হবে

ফিচার ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যাপক প্রসারের ফলে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা ও চাকরির প্রকৃতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা পেতে দুটি বিশেষ দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আইবিএমের প্রধান ট্যালেন্ট, লিডারশিপ ও কালচার কর্মকর্তা অপর্ণা নায়ার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দুই দক্ষতার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে হলে কর্মীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তির যুগে কাজের ধরন বদলালেও মানুষের নিজস্ব বিশ্লেষণ ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা সবসময় অপরিহার্য থাকবে।

আইবিএমের একটি বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে যে নিয়োগকর্তারা প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণ ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৭ শতাংশ মানবসম্পদ কর্মকর্তা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন। এছাড়া অনিশ্চয়তা ও অস্পষ্টতার মধ্যে বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ৪৮ শতাংশ কর্মকর্তা। তবে কর্মীদের একটি বড় অংশ এখনও এই দুটি দক্ষতার প্রকৃত গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়।

এদিকে কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কর্মীদের নিজস্ব দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আইবিএমের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজন কর্মী জানিয়েছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব কিছু দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে। জ্যাপিয়ারের ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশনের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক বনি ডিলবারও একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে সিদ্ধান্তের জন্য পুরোপুরি এআইয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এতে কর্মীদের মৌলিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং নিজস্ব মেধার বিকাশ সীমিত হয়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের এসব দক্ষতা নিয়োগকর্তাদের কাছে ফুটিয়ে তোলার জন্য লিংকডইনের মতো পেশাদার প্ল্যাটফর্মে বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাদের যুক্তি দিয়ে মতামত উপস্থাপন এবং তথ্যের যথার্থতা যাচাই করার সক্ষমতা সহজেই প্রকাশিত হয়। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির চাহিদা বদলালেও সমালোচনামূলক চিন্তার ক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে পেশাজীবীদের এগিয়ে রাখবে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মেধার বিকল্প হিসেবে না ভেবে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

নান্দনিকের ৪৯ বছর পূর্তিতে নাটক ও সিনেমার প্রদর্শনী

এআইয়ের যুগে ক্যারিয়ার গড়তে শুরুতেই যেসব দক্ষতায় জোর দিতে হবে

প্রকাশিত ০৯:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যাপক প্রসারের ফলে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা ও চাকরির প্রকৃতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা পেতে দুটি বিশেষ দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আইবিএমের প্রধান ট্যালেন্ট, লিডারশিপ ও কালচার কর্মকর্তা অপর্ণা নায়ার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দুই দক্ষতার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে হলে কর্মীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তির যুগে কাজের ধরন বদলালেও মানুষের নিজস্ব বিশ্লেষণ ও বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা সবসময় অপরিহার্য থাকবে।

আইবিএমের একটি বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে যে নিয়োগকর্তারা প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণ ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৭ শতাংশ মানবসম্পদ কর্মকর্তা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন। এছাড়া অনিশ্চয়তা ও অস্পষ্টতার মধ্যে বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ৪৮ শতাংশ কর্মকর্তা। তবে কর্মীদের একটি বড় অংশ এখনও এই দুটি দক্ষতার প্রকৃত গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়।

এদিকে কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কর্মীদের নিজস্ব দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আইবিএমের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজন কর্মী জানিয়েছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব কিছু দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে। জ্যাপিয়ারের ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশনের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক বনি ডিলবারও একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে সিদ্ধান্তের জন্য পুরোপুরি এআইয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এতে কর্মীদের মৌলিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং নিজস্ব মেধার বিকাশ সীমিত হয়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের এসব দক্ষতা নিয়োগকর্তাদের কাছে ফুটিয়ে তোলার জন্য লিংকডইনের মতো পেশাদার প্ল্যাটফর্মে বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাদের যুক্তি দিয়ে মতামত উপস্থাপন এবং তথ্যের যথার্থতা যাচাই করার সক্ষমতা সহজেই প্রকাশিত হয়। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির চাহিদা বদলালেও সমালোচনামূলক চিন্তার ক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে পেশাজীবীদের এগিয়ে রাখবে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মেধার বিকল্প হিসেবে না ভেবে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।