ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

কিশোর গ্যাং দমনে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

অপরাধ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি দেশের সব উপজেলায় বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিগুলোর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও। এছাড়া সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির ওপর ন্যস্ত থাকবে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব। তবে এই কমিটিগুলোর নির্দিষ্ট সদস্যসংখ্যা এবং কার্যপরিধি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে এসব বিষয় পরিষ্কার করা হবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান উল্লেখযোগ্য হারে জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় কারাগারেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে। গত সপ্তাহে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পাঁচ শতাধিক কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। একই সময়ে চাঁদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আরও ৭৬ জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গত মাসে চট্টগ্রামে এক সবজি বিক্রেতা হত্যাকাণ্ডের পেছনে কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গত অক্টোবর মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরেও অভিযান চালিয়ে এক ডজনের বেশি কিশোরকে আটক করে পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজধানী ঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে।

ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবী এলাকার মতো স্থানগুলোতে কোনো ধরনের কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকতে দেওয়া হবে না। এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশের নিয়মিত অভিযান বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই চলমান ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই মূলত উপজেলা পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের এই অপরাধ প্রবণতা রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই কমিটিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ও গঠনপ্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হতে পারে। কিশোর অপরাধ দমনে সরকারের এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধের হার অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল মাস্টার্সে ভর্তি, আবেদন ফি ১০০০

কিশোর গ্যাং দমনে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত ১০:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি দেশের সব উপজেলায় বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিগুলোর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও। এছাড়া সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির ওপর ন্যস্ত থাকবে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব। তবে এই কমিটিগুলোর নির্দিষ্ট সদস্যসংখ্যা এবং কার্যপরিধি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে এসব বিষয় পরিষ্কার করা হবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান উল্লেখযোগ্য হারে জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় কারাগারেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে। গত সপ্তাহে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পাঁচ শতাধিক কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। একই সময়ে চাঁদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে আরও ৭৬ জন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গত মাসে চট্টগ্রামে এক সবজি বিক্রেতা হত্যাকাণ্ডের পেছনে কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গত অক্টোবর মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরেও অভিযান চালিয়ে এক ডজনের বেশি কিশোরকে আটক করে পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজধানী ঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে।

ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবী এলাকার মতো স্থানগুলোতে কোনো ধরনের কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকতে দেওয়া হবে না। এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশের নিয়মিত অভিযান বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই চলমান ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই মূলত উপজেলা পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের এই অপরাধ প্রবণতা রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই কমিটিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ও গঠনপ্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হতে পারে। কিশোর অপরাধ দমনে সরকারের এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধের হার অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।