ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

যন্ত্রের শক্তিতে কৃষির রূপান্তর

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: মানিকগঞ্জে তথ্যচিত্র নির্মাণের সময় শহিদুল ইসলাম নামের এক তরুণ উদ্ভাবনী কৃষকের দেখা মেলে, যিনি নিজেই মালচিং পেপার কাটার সহজ ও দ্রুত পদ্ধতি তৈরি করেছেন। প্রয়োজন এবং সৃজনশীলতা থেকেই মূলত এ ধরনের অভিনব কৃষিযন্ত্রের জন্ম হয়। বাংলাদেশজুড়ে এমন অনেক কৃষক রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের তাগিদেই বিভিন্ন নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করে চলেছেন। নেত্রকোনার কেনু মিস্ত্রির মতো স্থানীয় কারিগররাও অতীতে দেশীয় উপায়ে অসংখ্য কৃষিযন্ত্র তৈরি করেছেন।

দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর্মসংস্থান ও জিডিপি অর্জিত হয়ে থাকে। বৈশ্বিক গতির তুলনায় কিছুটা ধীর হলেও গত কয়েক দশকে কৃষির যান্ত্রিকীকরণে একটি নীরব পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯০ শতাংশ জমি প্রস্তুত এবং প্রায় ৮০ শতাংশ সেচকাজ যান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়। তবে ধান কাটার মতো কার্যক্রমে যান্ত্রিকীকরণের হার এখনো ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বোরো ও আমন মৌসুমে শ্রমিক সংকটের কারণে প্রতিবছর কৃষকদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কম্বাইন হারভেস্টার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে অনেক সময় প্রকৃত কৃষকেরা ভর্তুকির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন এবং ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সরবরাহকৃত অনেক যন্ত্রের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে দূরে থাকছেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে থাকলেও স্থানীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটানো জরুরি। চীনে জিপিএস-নির্ভর ট্রাক্টর, ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিকাজ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের কৃষকদের জমির পরিমাণ কম ও অধিকাংশই ক্ষুদ্র বা মাঝারি হওয়ায় ছোট আকারের যন্ত্রে ভর্তুকি প্রদান করা বেশি কার্যকর হতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির এই রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

জনপ্রিয়

মিশর কোচ ও জিকোকে শাস্তি দিল ফিফা

যন্ত্রের শক্তিতে কৃষির রূপান্তর

প্রকাশিত ০৯:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: মানিকগঞ্জে তথ্যচিত্র নির্মাণের সময় শহিদুল ইসলাম নামের এক তরুণ উদ্ভাবনী কৃষকের দেখা মেলে, যিনি নিজেই মালচিং পেপার কাটার সহজ ও দ্রুত পদ্ধতি তৈরি করেছেন। প্রয়োজন এবং সৃজনশীলতা থেকেই মূলত এ ধরনের অভিনব কৃষিযন্ত্রের জন্ম হয়। বাংলাদেশজুড়ে এমন অনেক কৃষক রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের তাগিদেই বিভিন্ন নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করে চলেছেন। নেত্রকোনার কেনু মিস্ত্রির মতো স্থানীয় কারিগররাও অতীতে দেশীয় উপায়ে অসংখ্য কৃষিযন্ত্র তৈরি করেছেন।

দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর্মসংস্থান ও জিডিপি অর্জিত হয়ে থাকে। বৈশ্বিক গতির তুলনায় কিছুটা ধীর হলেও গত কয়েক দশকে কৃষির যান্ত্রিকীকরণে একটি নীরব পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯০ শতাংশ জমি প্রস্তুত এবং প্রায় ৮০ শতাংশ সেচকাজ যান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়। তবে ধান কাটার মতো কার্যক্রমে যান্ত্রিকীকরণের হার এখনো ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বোরো ও আমন মৌসুমে শ্রমিক সংকটের কারণে প্রতিবছর কৃষকদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কম্বাইন হারভেস্টার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে অনেক সময় প্রকৃত কৃষকেরা ভর্তুকির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন এবং ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সরবরাহকৃত অনেক যন্ত্রের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে দূরে থাকছেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে থাকলেও স্থানীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটানো জরুরি। চীনে জিপিএস-নির্ভর ট্রাক্টর, ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিকাজ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের কৃষকদের জমির পরিমাণ কম ও অধিকাংশই ক্ষুদ্র বা মাঝারি হওয়ায় ছোট আকারের যন্ত্রে ভর্তুকি প্রদান করা বেশি কার্যকর হতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির এই রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।