অপরাধ ডেস্ক: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী এলাকায় জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মাহমুদুল্লাহ ও তার পরিবার জানিয়েছেন, তাদের পৈতৃক জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে বাধা দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দেওয়ায় তাদের ওপর কয়েক দফায় হামলা চালানো হয়েছে এবং চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ছাবের মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, খতিয়ানভুক্ত এই জমিটি তাদের কেন দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করা সম্পত্তি। কিন্তু অভিযুক্তরা জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করছে এবং ঘর তুলতে দিচ্ছে না। এ বিষয়ে থানায় একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশি উপস্থিতিতে হওয়া সালিশ বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি। বরং সালিশে জমির বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা অথবা জমির অর্ধেক অংশ ছেড়ে দেওয়ার অদ্ভুত প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবের একটি অডিও রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে স্থানীয় যুবদল নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। সালিশ বৈঠকে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মকছুদু আলম নিরুর ব্যক্তিগত সহকারী নেজাম উদ্দিন টাকা বা জমি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নেজাম উদ্দিন দাবি করেছেন যে তিনি কেবল ছাবের পক্ষের কথাটি অন্যদের বলেছেন এবং যুবদল নেতা মকছুদু আলম নিরু চাঁদাবাজি বা কাউকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান যে তিনি কেবল বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। মূল জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার আমান উল্লাহ জানিয়েছেন যে ছাবের পক্ষের স্ট্যাম্পটি সম্পূর্ণ জাল।
সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে মারাত্মক হামলা চালানো হয়। হামলায় মাহমুদুল্লাহর হাতের কবজি ভেঙে যায় এবং তার ছোট ভাইয়ের মাথায় আঘাত লেগে কানের পর্দা ফেটে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান জানিয়েছেন যে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






































