ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রিসোর্টে আগুন: কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তার দায় কার?

অপরাধ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই রিসোর্টটিতে কোনো ধরনের অনুমোদন ছিল না। সরকারি একাধিক সংস্থার নিষেধাজ্ঞা ও নোটিস উপেক্ষা করে কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালু ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগেই রিসোর্টটিকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রতিষ্ঠানটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র বা বৈধ লাইসেন্স ছিল না। এমনকি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সাল থেকেই স্থাপনাটি অপসারণের নির্দেশ দিয়ে একাধিক নোটিস পাঠিয়েছিল। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে রিসোর্টটি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এত দিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম চলার পেছনে জনবল সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, পুরো জেলায় মাত্র একজন পরিদর্শক রয়েছে যার অধীনে রয়েছে শত শত প্রতিষ্ঠান। একইভাবে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি জানান, বারবার নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও অপরাধমূলক মানসিকতার কারণে মালিকপক্ষ আইন অমান্য করে ব্যবসা চালিয়ে গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও অবৈধ স্থাপনা হিসেবে রিসোর্টটিকে জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। তবে আইনি নোটিস ও জরিমানা ধার্য করার পরও কেন তা দ্রুত উচ্ছেদ বা সিলগালা করা হলো না, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা ও সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারির গাফিলতি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, আবেদন যেভাবে

রিসোর্টে আগুন: কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তার দায় কার?

প্রকাশিত ১০:৫২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই রিসোর্টটিতে কোনো ধরনের অনুমোদন ছিল না। সরকারি একাধিক সংস্থার নিষেধাজ্ঞা ও নোটিস উপেক্ষা করে কীভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালু ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগেই রিসোর্টটিকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রতিষ্ঠানটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র বা বৈধ লাইসেন্স ছিল না। এমনকি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সাল থেকেই স্থাপনাটি অপসারণের নির্দেশ দিয়ে একাধিক নোটিস পাঠিয়েছিল। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে রিসোর্টটি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এত দিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম চলার পেছনে জনবল সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, পুরো জেলায় মাত্র একজন পরিদর্শক রয়েছে যার অধীনে রয়েছে শত শত প্রতিষ্ঠান। একইভাবে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি জানান, বারবার নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও অপরাধমূলক মানসিকতার কারণে মালিকপক্ষ আইন অমান্য করে ব্যবসা চালিয়ে গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও অবৈধ স্থাপনা হিসেবে রিসোর্টটিকে জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। তবে আইনি নোটিস ও জরিমানা ধার্য করার পরও কেন তা দ্রুত উচ্ছেদ বা সিলগালা করা হলো না, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা ও সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারির গাফিলতি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।