অপরাধ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে এই সামাজিক ব্যাধি শক্তহাতে দমন করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই কাঠামোগত ব্যবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) কমিটির সভাপতি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সদস্য-সচিব করা হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে বিপুল সংখ্যক কিশোর আটকের ঘটনাও এই পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
গত সপ্তাহে কুমিল্লা ও চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সন্দেহভাজন সদস্য হিসেবে যথাক্রমে পাঁচ শতাধিক এবং ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত মাসে চট্টগ্রামে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জেরে হৃদয় নামের এক ষোড়শ বয়সী সবজি বিক্রেতা খুন হন। গত অক্টোবর মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাহাত্তর জন কিশোরকে আটক করার পর তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের আটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দির চাপ তৈরি হয়েছে বলে কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে। এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান জোরদার করার কঠোর নির্দেশও প্রদান করেছিলেন।
সামগ্রdভাবে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। উপজেলা পর্যায়ে এই প্রশাসনিক কমিটি গঠিত হলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কিশোরদের বিপথগামিতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।






































