ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি কেন হয়, কীভাবে বাড়ানো যায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন যৌনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পেশির শক্তি, হাড়ের ঘনত্ব এবং মানসিক মেজাজ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বয়স বৃদ্ধির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ছাড়াও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে এই প্রয়োজনীয় হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে। শারীরিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, যৌন ইচ্ছা হ্রাস পাওয়া এবং বিষণ্নতা মূলত এই হরমোনের ঘাটতির প্রধান লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়।

বয়স ৩০ বছর পার হওয়ার পর থেকেই পুরুষদের শরীরে স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিবছর প্রায় এক শতাংশ হারে টেস্টোস্টেরন কমতে শুরু করে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ও যকৃতের রোগ এই হরমোন হ্রাসের হার ত্বরান্বিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরের স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে।

অণ্ডকোষ কিংবা মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে কোনো ধরনের সংক্রমণ, টিউমার বা আঘাতের কারণেও হরমোন নিঃসরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। হরমোনের ঘাটতি নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা বা সেরাম টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সঠিক কারণ উদঘাটনের পর চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা অন্যান্য হরমোন পরীক্ষা করা যেতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে এই হরমোনের মাত্রা বাড়াতে প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট মাঝারি থেকে ভারী ধরনের ব্যায়াম বা রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। খাদ্যতালিকায় জিংক ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি এড়িয়ে চলা উচিত। রাতে পর্যাপ্ত গভীর ঘুম নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত মেদ বা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা টেস্টোস্টেরন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কখনোই কোনো হরমোন জাতীয় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট সেবন করা উচিত নয়। অনেকে পেশি বা শক্তি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরমোন গ্রহণ করেন, যার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই যেকোনো চিকিৎসা বা থেরাপি গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ, ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি কেন হয়, কীভাবে বাড়ানো যায়

প্রকাশিত ০৮:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন যৌনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পেশির শক্তি, হাড়ের ঘনত্ব এবং মানসিক মেজাজ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বয়স বৃদ্ধির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ছাড়াও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে এই প্রয়োজনীয় হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে। শারীরিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, যৌন ইচ্ছা হ্রাস পাওয়া এবং বিষণ্নতা মূলত এই হরমোনের ঘাটতির প্রধান লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়।

বয়স ৩০ বছর পার হওয়ার পর থেকেই পুরুষদের শরীরে স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিবছর প্রায় এক শতাংশ হারে টেস্টোস্টেরন কমতে শুরু করে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ও যকৃতের রোগ এই হরমোন হ্রাসের হার ত্বরান্বিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরের স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে।

অণ্ডকোষ কিংবা মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে কোনো ধরনের সংক্রমণ, টিউমার বা আঘাতের কারণেও হরমোন নিঃসরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। হরমোনের ঘাটতি নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা বা সেরাম টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সঠিক কারণ উদঘাটনের পর চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা অন্যান্য হরমোন পরীক্ষা করা যেতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে এই হরমোনের মাত্রা বাড়াতে প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট মাঝারি থেকে ভারী ধরনের ব্যায়াম বা রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। খাদ্যতালিকায় জিংক ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি এড়িয়ে চলা উচিত। রাতে পর্যাপ্ত গভীর ঘুম নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত মেদ বা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা টেস্টোস্টেরন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কখনোই কোনো হরমোন জাতীয় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট সেবন করা উচিত নয়। অনেকে পেশি বা শক্তি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হরমোন গ্রহণ করেন, যার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই যেকোনো চিকিৎসা বা থেরাপি গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।