ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মিষ্টির পর ইশরাক, বিএনপিতে কী চলছে?

রাজনীতি ডেস্ক: অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। সরকারের বা দলের কোনো কর্মকাণ্ড যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান। এর আগে মিরপুরে একটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার জেরে সংসদ সদস্য পদ থেকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনার পর এটি সরকারের আরেকটি কঠোর পদক্ষেপ।

তরুণ এই নেতার পদত্যাগের ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও দলের ভেতর নানা ধরনের আলোচনা ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং সুশাসন বজায় রাখতেই শীর্ষ নেতৃত্ব এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এমন অবস্থান নেওয়াটাই স্বাভাবিক। দলটির নীতিনির্ধারকরাও মনে করছেন যে সরকারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল।

এদিকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেও তার এমন আচরণ দলের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করেছে এবং তিনি লঘু পাপে গুরুদণ্ড পেয়েছেন। আবার তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন যে তাকে সরাসরি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াটা অতিরিক্ত কঠোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকেও এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

চলতি বছর সরকার গঠনের পর থেকে এটি দলের কোনো শীর্ষ নেতার দ্বিতীয় পদত্যাগের ঘটনা। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। দেশজুড়ে বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ উঠলেও শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবরই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে।

জনপ্রিয়

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সেলোনার জয়রথ থামাল পিএসজি

মিষ্টির পর ইশরাক, বিএনপিতে কী চলছে?

প্রকাশিত ০২:২২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। সরকারের বা দলের কোনো কর্মকাণ্ড যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান। এর আগে মিরপুরে একটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার জেরে সংসদ সদস্য পদ থেকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনার পর এটি সরকারের আরেকটি কঠোর পদক্ষেপ।

তরুণ এই নেতার পদত্যাগের ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও দলের ভেতর নানা ধরনের আলোচনা ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং সুশাসন বজায় রাখতেই শীর্ষ নেতৃত্ব এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এমন অবস্থান নেওয়াটাই স্বাভাবিক। দলটির নীতিনির্ধারকরাও মনে করছেন যে সরকারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল।

এদিকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেও তার এমন আচরণ দলের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করেছে এবং তিনি লঘু পাপে গুরুদণ্ড পেয়েছেন। আবার তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন যে তাকে সরাসরি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াটা অতিরিক্ত কঠোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকেও এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

চলতি বছর সরকার গঠনের পর থেকে এটি দলের কোনো শীর্ষ নেতার দ্বিতীয় পদত্যাগের ঘটনা। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। দেশজুড়ে বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ উঠলেও শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবরই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে।