ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যবহারে বাড়ছে মানসিক চাপ ও লজ্জা: গবেষণা

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দৈনন্দিন স্বাস্থ্য ও ক্যালোরি পরিমাপের ডিজিটাল অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের মনে তীব্র লজ্জা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা জনপ্রিয় এসব ফিটনেস টুলের নেতিবাচক মানসিক প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং লাফবরো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। গবেষক দলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর লাখ লাখ পোস্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করেছেন।

গবেষণা চলাকালীন শীর্ষ পাঁচটি ফিটনেস অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আলোচনা করা প্রায় ৫৮ হাজার পোস্ট চিহ্নিত করা হয়। সেখান থেকে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা প্রায় চৌদ্দ হাজার পোস্ট আলাদা করে গভীর বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকরা দেখতে পান যে, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের তথ্য অ্যাপে জমা দেওয়ার পর ব্যবহারকারীরা অপরাধবোধ ও লজ্জায় ভোগেন। এ ছাড়া, অ্যাপের অতিরিক্ত নোটিফিকেশন এবং দৈনন্দিন লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়া ব্যবহারকারীদের চরম হতাশ করে তোলে।

ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে এসব অ্যাপের অ্যালগরিদম যেভাবে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়, তা নিয়ে গবেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এসব অ্যাপের অ্যালগরিদম মানুষের বাস্তব জীবনের জটিলতা বা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। ফলে অনেক ব্যবহারকারী অযৌক্তিক অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের আশা পুরোপুরি ছেড়ে দেন। এই পুরো বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ জার্নাল অফ হেলথ সাইকোলজি সাময়িকীতে।

গবেষণাপত্রের জ্যেষ্ঠ লেখক ড. পাওলিনা বন্দারোনেক জানান, ফিটনেস অ্যাপগুলোর কঠোর ও সংকীর্ণ মাপকাঠি মানুষের সার্বিক কল্যাণকে ব্যাহত করে। অন্যদিকে সহ-লেখক ড. লুসি পোর্টার উল্লেখ করেন যে, এমন লজ্জাবোধ কখনোই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের জন্ম দেয় না। তাই গবেষকরা কঠোর ক্যালোরি গণনা থেকে সরে এসে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অ্যাপগুলোকে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

‘কখনোই বাড়ি ফিরতে চাই না’

ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যবহারে বাড়ছে মানসিক চাপ ও লজ্জা: গবেষণা

প্রকাশিত ০৪:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: দৈনন্দিন স্বাস্থ্য ও ক্যালোরি পরিমাপের ডিজিটাল অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের মনে তীব্র লজ্জা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা জনপ্রিয় এসব ফিটনেস টুলের নেতিবাচক মানসিক প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং লাফবরো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। গবেষক দলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর লাখ লাখ পোস্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করেছেন।

গবেষণা চলাকালীন শীর্ষ পাঁচটি ফিটনেস অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আলোচনা করা প্রায় ৫৮ হাজার পোস্ট চিহ্নিত করা হয়। সেখান থেকে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা প্রায় চৌদ্দ হাজার পোস্ট আলাদা করে গভীর বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকরা দেখতে পান যে, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের তথ্য অ্যাপে জমা দেওয়ার পর ব্যবহারকারীরা অপরাধবোধ ও লজ্জায় ভোগেন। এ ছাড়া, অ্যাপের অতিরিক্ত নোটিফিকেশন এবং দৈনন্দিন লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়া ব্যবহারকারীদের চরম হতাশ করে তোলে।

ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে এসব অ্যাপের অ্যালগরিদম যেভাবে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়, তা নিয়ে গবেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এসব অ্যাপের অ্যালগরিদম মানুষের বাস্তব জীবনের জটিলতা বা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। ফলে অনেক ব্যবহারকারী অযৌক্তিক অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের আশা পুরোপুরি ছেড়ে দেন। এই পুরো বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ জার্নাল অফ হেলথ সাইকোলজি সাময়িকীতে।

গবেষণাপত্রের জ্যেষ্ঠ লেখক ড. পাওলিনা বন্দারোনেক জানান, ফিটনেস অ্যাপগুলোর কঠোর ও সংকীর্ণ মাপকাঠি মানুষের সার্বিক কল্যাণকে ব্যাহত করে। অন্যদিকে সহ-লেখক ড. লুসি পোর্টার উল্লেখ করেন যে, এমন লজ্জাবোধ কখনোই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের জন্ম দেয় না। তাই গবেষকরা কঠোর ক্যালোরি গণনা থেকে সরে এসে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অ্যাপগুলোকে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।