ক্যাম্পাস ডেস্ক: দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছাপ্পান্ন দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশের এই দাবির মুখে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষাক্রম ও দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি থমে গেছে। আন্দোলনকারীরা শাটডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংকটের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন একটি বিশেষ পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং অল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আন্দোলনকারীদের মতে, তিনি যোগদানের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও বৃত্তির সুযোগ তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ শিক্ষকদের একাংশও তাঁর এই কাজের ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করে তাঁকে স্বপদে দেখতে চান। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁকে অপসারণ করা হলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে লাগাতার আন্দোলন ও শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই অপসারণের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো টানাপড়েন থাকতে পারে বলে কিছু আন্দোলনকারী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে এখনও কোনো কার্যকর আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন যে এই সংকট নিরসনের দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের। অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদী সেশন জট ও পড়াশোনা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। তারা দ্রুত সরকারের তরས་ থেকে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার প্রত্যাশা করছেন যাতে শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। শিক্ষক সমিতি এবং শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, যথাযথ আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থার দ্রুত অবসান ঘটবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষের নীরবতার কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউজিসির গঠিত পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ওপর এখন নির্ভর করছে এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ও চুয়েটের প্রশাসনিক গতিশীলতা। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়া সামগ্রিক উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে সঠিক সিদ্ধান্তই এই সংকটের একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।





































