খেলা ডেস্ক: জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমেই বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন স্পিনার আলিস আল ইসলাম। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। আইসিসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ৩০ ছুঁইছুঁই বোলারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং চালিয়ে যাওয়ার আগে তাকে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে স্বতন্ত্র পর্যালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী এখন তাকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে অভিষেক হয় এই রহস্য স্পিনারের। অবশ্য এর আগে গত মাসে এশিয়ান গেমসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার অভিষেক হয়েছিল, যেখানে তিনি একটিমাত্র ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এই বোলার। তিনি আট ওভার পাঁচ বল বোলিং করে মোট সাতচল্লিশ রান খরচ করেন এবং কোনো উইকেট শিকার করতে পারেননি। পুরো দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে বোলারের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপানো কঠিন হলেও আম্পায়ারদের চোখ এড়ায়নি তার বোলিং ভঙ্গি।
তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন ঘটনা আলিসের জন্য নতুন কিছু নয় কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৯ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে চমক সৃষ্টি করলেও সেবারই তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে অ্যাকশন শুধরে এবং পরীক্ষা দিয়ে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং করার বৈধতা ফিরে পেয়েছিলেন। ক্যারিয়ারজুড়ে বারবার ইনজুরির লড়াই পেরিয়ে এবং ঘরোয়া আসরে দারুণ বৈচিত্র্য দেখিয়ে তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুতেই অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তার কেরিয়ারে ফের বড় বাধা সৃষ্টি হলো।
ঘরোয়া টুর্নামেন্টে বিপিএলেও অতীতে বেশ কয়েকবার তার বোলিং ভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাকে পরীক্ষাগারে যেতে হয়েছিল। প্রতিবারই অ্যাকশন শুধরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি মাঠে ফিরেছিলেন এবং নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় পা রেখেই আইসিসির পরীক্ষাগারের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই স্পিনারকে। আইসিসির অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে পাস করতে পারলে তবেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবার বোলিং করার অনুমতি পাবেন। এই পর্যালোচনার ফল কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে এই রহস্য স্পিনারের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ।



































