বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের আজ ৩১তম জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া এই তারকা পেসার এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশের ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
বাঁহাতি পেসার হিসেবে মোস্তাফিজের উত্থানটা ছিল বেশ দ্রুত। ২০১২ সালে ফাস্ট বোলারদের ক্যাম্পে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন তিনি। এর আগে নিজ শহর সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতায় নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়েন। পরে তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পেস ফাউন্ডেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে খুলনার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আট উইকেট নিয়ে নিজের প্রতিভার জানান দেন। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্য হওয়ার সুযোগ পান তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অভিষেক ম্যাচেই শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজের মতো তারকাদের উইকেট তুলে নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
এর মাত্র দুই মাস পর, ১৯ জুন ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। পরের ম্যাচে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এই বাঁহাতি পেসার ৪৩ রানে ছয় উইকেট নিয়ে আবারও ম্যাচসেরা হন।
প্রথম দুই ওয়ানডেতেই ১১ উইকেট নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল রেকর্ড গড়েন মোস্তাফিজ। প্রথম দুই ওয়ানডেতে টানা পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকায় ব্রায়ান ভিটোরির পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে নিজের নাম লেখান তিনি। তার প্রথম দুই ওয়ানডের বোলিং ফিগার ছিল যথাক্রমে ৫/৫০ ও ৬/৪৩।
২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছিলেন মোস্তাফিজ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকায় সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় নাম হিসেবে যুক্ত হন তিনি। একই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও গড়েন এই পেসার।
বিশ্বকাপের শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ ম্যাচে ওয়ানডেতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন মোস্তাফিজ। একই ম্যাচে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। আট ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে মিচেল স্টার্কের পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে বিশ্বকাপ শেষ করেন।
৩১ বছরে পা দিলেও এখনও বাংলাদেশের জার্সিতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ করে তার বৈচিত্র্যময় কাটার ও স্লোয়ার বল প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য নিয়মিতই কঠিন পরীক্ষা হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও রয়েছে তার ব্যাপক চাহিদা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার অসামান্য অবদানের জন্য মোস্তাফিজকে বলা হয় ‘দ্য ফিজ’। জন্মদিনে এই তারকা পেসারের জন্য রইল শুভকামনা সামনের দিনগুলোতেও তার কাটারের জাদুতে আরও সাফল্য দেখুক বাংলাদেশের ক্রিকেট।





































