ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

এমআরডিআইয়ের আলোচনা: গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ‘কাঠামোগত সংস্কার’ জরুরি

গণমাধ্যম ডেস্ক: গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা মনে করেন, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। সম্প্রতি উন্নয়ন সংস্থা মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) আয়োজনে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় এই মতামত উঠে আসে। কানাডা ফান্ড ফর লোকাল ইনিশিয়েটিভসের (সিএফএলআই) সহায়তায় এবং কানাডা হাই কমিশনের অর্থায়নে এই ধারাবাহিক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে খুলনা, বরিশাল ও সিলেটেও একই ধরনের বিভাগীয় সভা সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই চতুর্থ আয়োজনে অঞ্চলটির বিভিন্ন জেলার গণমাধ্যম মালিক, প্রকাশক, সম্পাদক, সংবাদকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংবাদমাধ্যমে পেশাগত উৎকর্ষ সাধন এবং একটি কার্যকর স্ব-নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক আলোচনাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সভায় অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনেরা গণমাধ্যমের ওপর থেকে যেকোনো ধরনের বাইরের হস্তক্ষেপ কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জনের জন্য সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান এবং ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন যে, সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশমালা কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নয়, বরং পুরো শিল্প খাতের সম্মিলিত মতামত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইন সংশোধন করে বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপ নিলে বর্তমান বিশৃঙ্খল অবস্থার কোনো স্থায়ী সমাধান মিলবে না। একটি স্বাধীন স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত কাঠামোগত সংস্কার অর্জন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান সভায় নিজের বক্তব্যে জানান যে, স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বেশি শক্তিশালী হবে, সংবাদমাধ্যমে বাইরের হস্তক্ষেপের সুযোগ তত হ্রাস পাবে। নিজস্ব নৈতিক আচরণবিধির ওপর ভিত্তি করে স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে না তুললে সরকার সাইবার আইনের মতো কঠোর বিধান চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে সতর্ক করেন সংশ্লিষ্টরা। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

জনপ্রিয়

মৌসুম সেরা ক্লাব পিএসজি

এমআরডিআইয়ের আলোচনা: গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ‘কাঠামোগত সংস্কার’ জরুরি

প্রকাশিত ০১:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গণমাধ্যম ডেস্ক: গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা মনে করেন, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। সম্প্রতি উন্নয়ন সংস্থা মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) আয়োজনে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় এই মতামত উঠে আসে। কানাডা ফান্ড ফর লোকাল ইনিশিয়েটিভসের (সিএফএলআই) সহায়তায় এবং কানাডা হাই কমিশনের অর্থায়নে এই ধারাবাহিক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে খুলনা, বরিশাল ও সিলেটেও একই ধরনের বিভাগীয় সভা সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই চতুর্থ আয়োজনে অঞ্চলটির বিভিন্ন জেলার গণমাধ্যম মালিক, প্রকাশক, সম্পাদক, সংবাদকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংবাদমাধ্যমে পেশাগত উৎকর্ষ সাধন এবং একটি কার্যকর স্ব-নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এই ধারাবাহিক আলোচনাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সভায় অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনেরা গণমাধ্যমের ওপর থেকে যেকোনো ধরনের বাইরের হস্তক্ষেপ কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জনগণের আস্থা পুনরায় অর্জনের জন্য সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান এবং ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন যে, সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশমালা কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নয়, বরং পুরো শিল্প খাতের সম্মিলিত মতামত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইন সংশোধন করে বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপ নিলে বর্তমান বিশৃঙ্খল অবস্থার কোনো স্থায়ী সমাধান মিলবে না। একটি স্বাধীন স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত কাঠামোগত সংস্কার অর্জন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান সভায় নিজের বক্তব্যে জানান যে, স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বেশি শক্তিশালী হবে, সংবাদমাধ্যমে বাইরের হস্তক্ষেপের সুযোগ তত হ্রাস পাবে। নিজস্ব নৈতিক আচরণবিধির ওপর ভিত্তি করে স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে না তুললে সরকার সাইবার আইনের মতো কঠোর বিধান চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে সতর্ক করেন সংশ্লিষ্টরা। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।