রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের মারধর এবং কার্যালয় অবরুদ্ধ করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে অবস্থিত সিপিবির কার্যালয় এবং একই ভবনের অন্য তলায় থাকা সহযোগী সংগঠনের অফিসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বলেন যে, বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সংস্কৃতি কিংবা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগের দোসর ট্যাগ দিয়ে হয়রানি ও মবের শিকার করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক স্লোগান দেওয়ার কারণে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের চরম পরিপন্থি বলে তিনি মন্তব্য করেন। যুব ইউনিয়নের এই নেতা আরও জানান যে, এই সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের সংগঠনের অন্তত দুজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মব সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করার পরিবর্তে উল্টো ভুক্তভোগীদের ওপর চড়াও হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, অবরুদ্ধ নেতাকর্মীদের উদ্ধারের নামে পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। এই ধরনের ঘটনা ও পুলিশের আচরণ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কাঠামোর চরিত্র উন্মোচন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন যে, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা এবং শোষণহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের কণ্ঠস্বর রোধ করতেই এই ধরনের পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। সমাবেশে যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভুঁইয়া এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুল হকসহ অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর প্রতিবাদী নেতাকর্মীরা শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘাতের প্রতিবাদে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়।



































