অর্থনীতি ডেস্ক: গ্রাহকদের জন্য দ্রুত ও সহজ কন্ট্যাক্টলেস লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিত করতে কো-ব্র্যান্ডেড প্রিপেইড স্টিকার পেমেন্ট কার্ড বাজারে এনেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), মাস্টারকার্ড এবং গ্রামীণফোন। সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাস্টারকার্ড জানায় যে, এই অভিনব প্রিপেইড স্টিকার কার্ডটি স্মার্টফোন কিংবা অন্য যেকোনো উপযোগী ডিভাইসে সংযুক্ত করে ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে প্রথাগত প্লাস্টিক কার্ড সঙ্গে বহন করার ঝামেলা ছাড়াই নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্রে কন্ট্যাক্টলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজে পেমেন্ট করা সম্ভব হবে।
নতুন এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকেরা মাইজিপি অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন নির্দিষ্ট ওটিটি সেবা, বান্ডল এবং লার্নিং কোর্স কেনার ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট গ্রামীণফোন ফাই সাবস্ক্রিপশনে ৩ শতাংশ ক্যাশব্যাক এবং নির্ধারিত রোমিং প্যাক ক্রয়ে ৫০ টাকা ক্যাশব্যাকের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, জিপিস্টার এবং মাস্টারকার্ডের সহযোগী মার্চেন্টদের কাছ থেকেও বিশেষ অফার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট লেনদেন সম্পন্ন করার মাধ্যমে খুব দ্রুত মাইজিপি পয়েন্ট অর্জনের সুবিধাও এই কার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কার্ডটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। এছাড়া ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মামদুদুর রশিদ, মাস্টারকার্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা গৌতম আগারওয়াল ও সান্দুন হাপুগোদা এবং গ্রামীণফোনের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার সোলায়মান আলমসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ব্যাংকিং, কানেক্টিভিটি এবং বৈশ্বিক পেমেন্ট প্রযুক্তির এই চমৎকার সমন্বয় দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনকে আরও গতিশীল ও সাশ্রয়ী করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নির্বাহীরা। ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর জানান যে, আধুনিক আর্থিক সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন হলো এই স্টিকার কার্ড। মাস্টারকার্ডের কর্মকর্তা গৌতম আগারওয়াল উল্লেখ করেন যে, এমন উদ্ভাবনী পেমেন্ট ব্যবস্থা বাংলাদেশে কন্ট্যাক্টলেস লেনদেনের পরিধি আরও প্রসারিত করবে। গ্রামীণফোনের সোলায়মান আলম জানান, ডিজিটাল জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাহকদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যেই এই পেমেন্ট সমাধান আনা হয়েছে।
গ্রাহকবান্ধব এই কার্ডটির প্রথম বছরের বার্ষিক মাশুল পুরোপুরি মওকুফ করা হয়েছে। এমনকি এক ক্যালেন্ডার বছরে এক লাখ টাকা বা তার বেশি খরচ করলে পরবর্তী বছরের বার্ষিক মাশুলও সম্পূর্ণ মওকুফ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। প্রচলিত কার্ডের বাইরে গিয়ে স্টিকার ফরম্যাটে তৈরি এই মাধ্যমটি ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





































