রাজনীতি ডেস্ক: গত ২৭ অক্টোবর রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘ ১৫ বছরের গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে সাপের মতো বিপজ্জনক বিষ নিয়ে নাড়াচাড়া করলে তা যেকোনো সময় ছোবল দিয়ে মেরে ফেলতে পারে। এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউ এখনো নানাভাবে আশকারা পেয়ে যাচ্ছেন।
সভায় বক্তৃতাকালে জামায়াত আমির দাবি করেন যে আওয়ামী লীগ অতীতে কখনোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারেনি এবং প্রতিবারই তাদের লাঞ্ছিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে। কেউ যদি অতীদের মতো একই ভুল পথে হাঁটার চেষ্টা করেন, তবে তাদের পরিণতিও আগের মতোই শোচনীয় হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে অতীতে তাদের দলের অনেক নেতাকর্মীকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং বহু পরিবারের সদস্যরা এখনো তাদের প্রিয়জনদের মৃতদেহ বা কবর খুঁজে পাননি। সন্তান বেঁচে আছে কি না কিংবা মারা গেলে কোথায় তাদের সমাহিত করা হয়েছে, সেই মর্মান্তিক তথ্য থেকেও অনেক বাবা-মাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে তারা প্রতিশোধ নয় বরং আইনসম্মত ন্যায়বিচার দেখতে চান। তবে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা গেলে প্রত্যেক অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়া অনিবার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করেন যে তাদের দলের যেসব শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তারা চরম অন্যায়ের শিকার হয়েও হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন। জীবন একটাই এবং সেই জীবন আল্লাহ ও মানবতার কল্যাণে উৎসর্গ করতে তারা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন বলে তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত প্রধান বলেন, মানুষ হত্যা বা সহিংসতা যদি রাজনীতির সংজ্ঞা হয়, তবেই কেবল দলটি রাজনীতি করার যোগ্যতা রাখে। পক্ষান্তরে, দেশের উন্নয়ন সাধন, বৈষম্য দূর করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা যদি রাজনীতির মূল লক্ষ্য হয়, তবে সেই যোগ্যতা দলটির নেই। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে দলটির কোনোভাবেই রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার থাকা উচিত নয় বলে তিনি জোরালো দাবি জানান।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ রক্ষায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় এই নেতা। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে এই দেশ সকলের এবং কোনো অবস্থাতেই কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির কাছে মাতৃভূমিকে ইজারা দেওয়া হবে না। নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সবসময় সতর্ক পাহারাদার হিসেবে সজাগ থাকবেন বলে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।




































