ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo পর্যটন বাড়াতে হিমালয় ও বঙ্গোপসাগরকে ‘মেলাতে চান’ নেপালের রাষ্ট্রদূত Logo দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে ডাকল ভারত Logo ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতা Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সহযোগিতা স্মারক সই Logo বিশ্বজয়ের সাফল্য, ইন্ডাস্ট্রির হতাশা নিয়ে ‘স্টার স্টোরিজ’-এ মনোজ প্রামাণিক Logo নির্বাচনে ইসরায়েলি ইহুদিদের অপ্রত্যাশিত সমর্থনে সংকট উৎরে গেলেন নেতানিয়াহু Logo শফিক রিয়ানের কথাসাহিত্যে নতুন সংযোজন ‘প্ররোচক’ Logo মাদারীপুরে শতাধিক বাড়িতে হামলা-লুটপাট Logo রোমানদের ১৬০০ বছরের পুরনো কাচশিল্পের রহস্য উদ্ধার

রোমানদের ১৬০০ বছরের পুরনো কাচশিল্পের রহস্য উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট: আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রং বদলানো প্রাচীন রোমানদের ষোড়শ শতকের এক বিখ্যাত কাচশিল্পের রহস্য অবশেষে উদ্ধার করেছেন গবেষকরা। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ‘লাইকারগাস কাপ’ নামের এই পাত্রটি সাধারণ আলোতে সবুজ দেখালেও পেছনের আলোয় চুনি পাথরের মতো লাল হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে ইতিহাসবিদ ও কাচশিল্পীদের বিস্মিত করে আসা এই অপটিকাল বিজ্ঞানের কৌশল সফলভাবে পুনরায় তৈরি করেছেন শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। প্রাচীন এই দ্বিবর্ণিল কাচের টুকরা থেকে সূত্র নিয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর কাচটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

চতুর্থ শতকের এই ঐতিহাসিক পাত্রটিতে খোদাই করা রয়েছে হোমারের ‘ইলিয়াড’ থেকে নেওয়া রাজা লাইকারগাসের পৌরাণিক কাহিনী। মদ্যদেব ডায়োনিসাসের হাতে রাজা লাইকারগাসের পরাস্ত হওয়ার সেই দৃশ্য নিখুঁত কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই শিল্পকর্মে। কাচ বিশেষজ্ঞদের আন্তর্জাতিক প্যানেল সম্প্রতি এটিকে বিশ্বের সাতটি অনন্য কাচ-বিস্ময়ের একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই প্রাচীন জাদুকরী প্রভাব ফুটিয়ে তুলতে শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কাচশিল্পী এলিয়ট ওয়াকারকে দিয়ে সমসাময়িক একটি ভাস্কর্যও তৈরি করিয়েছেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কাচের ভেতর বালুকণার চেয়ে হাজার গুণ ছোট সোনা ও রূপার ন্যানোকণা যুক্ত করেন। কাচ গলিয়ে তৈরি করা ঘন তরল এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা থেকে ঠান্ডা করার সময় এর ভেতরে ন্যানো-ক্রিস্টাল জমাট বাঁধতে শুরু করে। এই ন্যানোকণাগুলোর কারণে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রভাবিত হয় এবং নির্দিষ্ট কিছু রং আটকে গিয়ে লাল বা সবুজ বর্ণ ধারণ করে। প্রাচীন রোমানরা চুল্লির ভেতরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলেও বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রখ্যাত রোমান কাচ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ক্যারোলিন জ্যাকসনের সঙ্গে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন টেকনিশিয়ান ড. লিসা হল্যান্ডস। এই সাফল্য প্রাচীন রোমান কারিগরদের কাজের পদ্ধতি বুঝতে গবেষকদের সাহায্য করবে বলে মনে করছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ইয়ান ফ্রিকস্টোন। রোমানদের তৈরি এই অনন্য শিল্পকর্মটির লাল ও সবুজ রং মূলত আঙুরের পরিপক্বতা নির্দেশ করে। প্রাচীনকালে পানীয় পানের উৎসবে ব্যবহৃত এই পাত্রটি রোমান কারিগরদের নিখুঁত দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে টিকে রয়েছে।

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ‘ফেস্টিভাল অফ দ্য মাইন্ড’ চলাকালীন মিলেনিয়াম গ্যালারিতে এই নতুন শিল্পকর্মটি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। প্রদর্শনী শেষে এটি স্থায়ীভাবে ‘টার্নার মিউজিয়াম অফ গ্লাস’-এ দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। প্রাচীন রোমান শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মটি আধুনিক বিজ্ঞান ও ইতিহাসের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এর মাধ্যমে শত শত বছর আগের রোমান কারিগরদের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের একটি গভীর সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।

জনপ্রিয়

পর্যটন বাড়াতে হিমালয় ও বঙ্গোপসাগরকে ‘মেলাতে চান’ নেপালের রাষ্ট্রদূত

রোমানদের ১৬০০ বছরের পুরনো কাচশিল্পের রহস্য উদ্ধার

প্রকাশিত ০৮:২২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রং বদলানো প্রাচীন রোমানদের ষোড়শ শতকের এক বিখ্যাত কাচশিল্পের রহস্য অবশেষে উদ্ধার করেছেন গবেষকরা। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ‘লাইকারগাস কাপ’ নামের এই পাত্রটি সাধারণ আলোতে সবুজ দেখালেও পেছনের আলোয় চুনি পাথরের মতো লাল হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে ইতিহাসবিদ ও কাচশিল্পীদের বিস্মিত করে আসা এই অপটিকাল বিজ্ঞানের কৌশল সফলভাবে পুনরায় তৈরি করেছেন শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। প্রাচীন এই দ্বিবর্ণিল কাচের টুকরা থেকে সূত্র নিয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর কাচটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

চতুর্থ শতকের এই ঐতিহাসিক পাত্রটিতে খোদাই করা রয়েছে হোমারের ‘ইলিয়াড’ থেকে নেওয়া রাজা লাইকারগাসের পৌরাণিক কাহিনী। মদ্যদেব ডায়োনিসাসের হাতে রাজা লাইকারগাসের পরাস্ত হওয়ার সেই দৃশ্য নিখুঁত কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই শিল্পকর্মে। কাচ বিশেষজ্ঞদের আন্তর্জাতিক প্যানেল সম্প্রতি এটিকে বিশ্বের সাতটি অনন্য কাচ-বিস্ময়ের একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই প্রাচীন জাদুকরী প্রভাব ফুটিয়ে তুলতে শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কাচশিল্পী এলিয়ট ওয়াকারকে দিয়ে সমসাময়িক একটি ভাস্কর্যও তৈরি করিয়েছেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কাচের ভেতর বালুকণার চেয়ে হাজার গুণ ছোট সোনা ও রূপার ন্যানোকণা যুক্ত করেন। কাচ গলিয়ে তৈরি করা ঘন তরল এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা থেকে ঠান্ডা করার সময় এর ভেতরে ন্যানো-ক্রিস্টাল জমাট বাঁধতে শুরু করে। এই ন্যানোকণাগুলোর কারণে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রভাবিত হয় এবং নির্দিষ্ট কিছু রং আটকে গিয়ে লাল বা সবুজ বর্ণ ধারণ করে। প্রাচীন রোমানরা চুল্লির ভেতরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলেও বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রখ্যাত রোমান কাচ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ক্যারোলিন জ্যাকসনের সঙ্গে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন টেকনিশিয়ান ড. লিসা হল্যান্ডস। এই সাফল্য প্রাচীন রোমান কারিগরদের কাজের পদ্ধতি বুঝতে গবেষকদের সাহায্য করবে বলে মনে করছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ইয়ান ফ্রিকস্টোন। রোমানদের তৈরি এই অনন্য শিল্পকর্মটির লাল ও সবুজ রং মূলত আঙুরের পরিপক্বতা নির্দেশ করে। প্রাচীনকালে পানীয় পানের উৎসবে ব্যবহৃত এই পাত্রটি রোমান কারিগরদের নিখুঁত দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে টিকে রয়েছে।

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ‘ফেস্টিভাল অফ দ্য মাইন্ড’ চলাকালীন মিলেনিয়াম গ্যালারিতে এই নতুন শিল্পকর্মটি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। প্রদর্শনী শেষে এটি স্থায়ীভাবে ‘টার্নার মিউজিয়াম অফ গ্লাস’-এ দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। প্রাচীন রোমান শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মটি আধুনিক বিজ্ঞান ও ইতিহাসের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এর মাধ্যমে শত শত বছর আগের রোমান কারিগরদের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের একটি গভীর সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।