ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি Logo সিডনিতে ডেপুটি মেয়র এলিজা রহমানকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা Logo নবীনদের বরণ করল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি Logo উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি Logo জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের দায়িত্বে অধ্যাপক নাছির Logo ছায়ানটে সুরে সুরে কিংবদন্তি আব্বাসউদ্দীনকে স্মরণ Logo ব্যাট-বলের জমজমাট দিনে অ‍্যাকারম‍্যানের ৯৫, স্টার্কের ৬ উইকেট Logo কেজি দরে পাঠ্যবই বিক্রির সময় শিক্ষক বললেন, ‘সম্মানী দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’ Logo আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনার আহ্বান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের Logo জাপানের সঙ্গে চুক্তির নামে ভারতকে ‘স্বার্থ’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে: আখতার

উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে সুনির্দিষ্ট ৬৬টি ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। সরকারি তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া, ঠিকাদারি বিল প্রদান এবং ভ্যাট-কর আদায়ের ক্ষেত্রে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মোট পরিমাণ প্রায় ২৭ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর অধিকতর তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হস্তান্তর করেছে। সংগৃহীত নথিপত্র, অডিট প্রতিবেদন এবং আগের বিভিন্ন তদন্ত পর্যালোচনা করে এই ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র সামনে আনা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং মান যাচাই ছাড়াই কাজের বিল পরিশোধের মতো গুরুতর বিষয়গুলো এতে স্থান পেয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঢাকা ওয়াসা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। পিরোজপুরে এলজিইডির কার্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, গাজীপুর, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রসিদ কাটিং ফি ও ভ্যাট জমা না দেওয়ার ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা না করেই বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে কোটি কোটি টাকার বিল পরিশোধের প্রমাণ মিলেছে। মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনার ভাড়া আদায় সংক্রান্ত ঘটনায় বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স ফি না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের তথ্য এবং বরিশাল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়দের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পানির গুণগতমান পরীক্ষা এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত প্রকল্পে বিল পরিশোধে অনিয়মের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৩) অর্থ ব্যবহারে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা সত্ত্বেও ঠিকাদারদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় না করার বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়ে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার অর্থ এই নয় যে অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি এবং দায়ীদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণের জন্য দুদকের দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয়

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি

উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি

প্রকাশিত ১১:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে সুনির্দিষ্ট ৬৬টি ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। সরকারি তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া, ঠিকাদারি বিল প্রদান এবং ভ্যাট-কর আদায়ের ক্ষেত্রে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মোট পরিমাণ প্রায় ২৭ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর অধিকতর তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হস্তান্তর করেছে। সংগৃহীত নথিপত্র, অডিট প্রতিবেদন এবং আগের বিভিন্ন তদন্ত পর্যালোচনা করে এই ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র সামনে আনা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং মান যাচাই ছাড়াই কাজের বিল পরিশোধের মতো গুরুতর বিষয়গুলো এতে স্থান পেয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঢাকা ওয়াসা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। পিরোজপুরে এলজিইডির কার্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, গাজীপুর, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রসিদ কাটিং ফি ও ভ্যাট জমা না দেওয়ার ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা না করেই বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে কোটি কোটি টাকার বিল পরিশোধের প্রমাণ মিলেছে। মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনার ভাড়া আদায় সংক্রান্ত ঘটনায় বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স ফি না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের তথ্য এবং বরিশাল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়দের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পানির গুণগতমান পরীক্ষা এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত প্রকল্পে বিল পরিশোধে অনিয়মের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৩) অর্থ ব্যবহারে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা সত্ত্বেও ঠিকাদারদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় না করার বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়ে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার অর্থ এই নয় যে অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি এবং দায়ীদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণের জন্য দুদকের দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।