অপরাধ ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচিত বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরি নিখোঁজ হওয়ার পর তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরার বাসা থেকে দ্বীপ নামের এক বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের ডাকে তিনি নিচে নেমেছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এরপর রাতে তিনি আর বাসায় ফেরেননি এবং পরবর্তীতে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষ করে জুনিয়র এক বন্ধুর ডাকে তিনি ঘর ছেড়েছিলেন। বিমান বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজে কাজ করেছিলেন বলেও পরিবার জানিয়েছে।
নিহত তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম সাংবাদিকদের জানান, ছোটভাই দ্বীপের ডাকে নিচে যাওয়ার পর তাহসিফের মা তাকে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফেরেননি। পরবর্তীতে রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি ফেরার কথা জানালেও তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত উত্তরখান থানা থেকে ফোন করে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়। পরিবারের ধারণা, যে এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেদিকে তাহসিফ সাধারণত যাতায়াত করতেন না। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে বাইক চালাতে নিষেধ করা হলেও তিনি ঘটনার দিন বাইক নিয়েই ঘর থেকে বের হয়েছিলেন।
তাহসিফের স্বজনরা জানিয়েছেন, তাকে ডেকে নেওয়া বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং দ্বীপ একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর তাকে এলাকার কাছে নামিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তাহসিফের ব্যবহৃত বাইকটি নিখোঁজ রয়েছে এবং পুলিশ পরিবারের কাছে বাইকের বিবরণ ও ছবি সংগ্রহ করেছে। পুলিশ ও নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তারা কোনো অভিযোগ পাননি এবং মূল বিষয়টি নৌ পুলিশ দেখভাল করছে। টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি ধারণকারী হিসেবে তাহসিফ সুরির নাম আলোচনায় আসে। বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি যাওয়ার কারণ হিসেবে শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার গুঞ্জন উঠেছিল। তবে আইএসপিআর তখন এক প্রতিবাদলিপিতে জানিয়েছিল যে, ওই দুই কর্মকর্তাকে প্রচলিত আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার কোনো সম্পর্ক নেই। এই মৃত্যুর ঘটনা এবং এর পেছনের সব প্রেক্ষাপট উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।





































