অপরাধ ডেস্ক: পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের আরোপিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমায় আইন অমান্য করে মাছ শিকার করায় চাঁদপুরে মোট ৬৪৬ জন জেলেকে আটক করা হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, টাস্কফোর্স এবং নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত মামলার মাধ্যমে আটককৃতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও চাঁদপুর নৌ থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার নিয়ম অমান্যকারীদের ধরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠে থেকে ব্যাপক তৎপরতা চালায়।
মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টাস্কফোর্সের ২৩৮টি অভিযানে আটক জেলেদের মধ্য থেকে ১৮৩ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জরিমানা বাবদ ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া নৌ পুলিশের পৃথক অভিযানে আটক ৪৬৩ জেলের মধ্যে ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ১২০ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও মাছ জব্দ করে। মৎস্য বিভাগ প্রায় ১২ লাখ মিটার এবং নৌ পুলিশ প্রায় ৩০ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। এ ছাড়া অভিযানে উদ্ধার করা ২ টনের বেশি ইলিশ মাছ স্থানীয় দুস্থ মানুষ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চাঁদপুরের নিবন্ধিত প্রায় ৪৪ হাজার জেলে পুনরায় নদীতে নেমেছেন। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের এই কঠোর ভূমিকার কারণে নদী অঞ্চলে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের তদারকি ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





































