ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

‘শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চলমান আলোচনায় তেহরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর কড়া জোর দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই শর্তগুলো পূর্ণ না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো অগ্রগতি হওয়া সম্ভব নয়। গত ২৯ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কোনো ধরনের চাপ কিংবা প্রলোভনের মুখে ইরান নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটবে না। মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তেহরানের দাবিগুলো ইতিমধ্যে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সংঘাত নিরসনে বর্তমানে বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও দুই দেশের মূল লক্ষ্য নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা। এছাড়া আঞ্চলিক শত্রুতা বন্ধ এবং বন্দরগুলোতে আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে তেহরান। বিপরীতে, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে সবার আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান চাচ্ছে।

এদিকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে মার্কিন পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো সংকট নিরসনে নতুন খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্প্রতি তাদের প্রতিনিধিরা তেহরানেও ফিরে গেছেন। তবে পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা অপসারণের মতো জটিল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষই অনড় থাকায় সমঝোতার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য আলোচনার মধ্যে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা দেখা দিলে তা বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরান মনে করছে, কেবল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সদিচ্ছা প্রমাণ করতে হবে। ফলে মধ্যস্থতাকারীদের নতুন উদ্যোগ সত্ত্বেও দুই পরাশক্তির এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন সহজে সমাধানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

জনপ্রিয়

কত রান হলে জিততে পারবে বাংলাদেশ

‘শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়’

প্রকাশিত ০৫:২২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চলমান আলোচনায় তেহরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর কড়া জোর দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই শর্তগুলো পূর্ণ না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো অগ্রগতি হওয়া সম্ভব নয়। গত ২৯ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কোনো ধরনের চাপ কিংবা প্রলোভনের মুখে ইরান নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটবে না। মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তেহরানের দাবিগুলো ইতিমধ্যে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সংঘাত নিরসনে বর্তমানে বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও দুই দেশের মূল লক্ষ্য নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা। এছাড়া আঞ্চলিক শত্রুতা বন্ধ এবং বন্দরগুলোতে আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে তেহরান। বিপরীতে, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে সবার আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান চাচ্ছে।

এদিকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে মার্কিন পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো সংকট নিরসনে নতুন খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্প্রতি তাদের প্রতিনিধিরা তেহরানেও ফিরে গেছেন। তবে পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা অপসারণের মতো জটিল বিষয়গুলোতে দুই পক্ষই অনড় থাকায় সমঝোতার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য আলোচনার মধ্যে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা দেখা দিলে তা বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরান মনে করছে, কেবল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সদিচ্ছা প্রমাণ করতে হবে। ফলে মধ্যস্থতাকারীদের নতুন উদ্যোগ সত্ত্বেও দুই পরাশক্তির এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন সহজে সমাধানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।