আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জোরালো চাপ থাকায় বিগত চৌত্রিশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র এই ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৩০টি এবং বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়ে এবং ২৫টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। আগের বছর এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৫টি ভোট, বিপক্ষে ৭টি ভোট এবং ১২টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
মার্কিন প্রশাসনের কৌশলগত ও রাজনৈতিক চাপের কারণেই বেশ কিছু দেশ এবার ভোটদান থেকে বিরত থাকে কিংবা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। জার্মানি, ইতালি ও লাটভিয়ার মতো পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর এবার ভোটদানে বিরত থেকেছে। অন্যদিকে, লিথুয়ানিয়া, স্লোভেনিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও পূর্বের অবস্থান বদলে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। ঐতিহাসিকভাবে কিউবার উদ্যোগের পক্ষে থাকা কোস্টারিকা, কলম্বিয়া, হন্ডুরাস ও চিলির মতো দেশগুলোও হয় নিন্দা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে অথবা ভোটদানে বিরত থেকেছে।
এই ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে অর্থনৈতিক চাপের মুখে কিউবার আর্থিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি নতুন করে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি সামনে এনে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। বিতর্ক চলার সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এবং কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। সমাজতান্ত্রিক সরকারের সমালোচনা করার সময় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন দূতকে মিথ্যাবাদী বলে অভিহিত করেন এবং নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ মার্কিন দূতকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি হোয়াইট হাউজে নয় বরং জাতিসংঘে অবস্থান করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিউবার ওপর তাদের অর্থনৈতিক আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও এই প্রস্তাবগুলো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও বিশ্বমঞ্চে এ ধরনের ভোটাভুটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে।





































