আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর এখন শিশুদের তুলনায় বয়স্ক মানুষের ভরণপোষণের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবীণদের নির্ভরতার হার শিশুদের ছাড়িয়ে যাওয়ার এই ঘটনা দেশটিতে প্রথমবারের মতো ঘটল। জন্মহার ক্রমাগত কমে যাওয়া এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর দ্রুত বৃদ্ধির ফলে এই পরিবর্তন এসেছে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যম ইচাই জানিয়েছে, দেশটিতে বয়স্ক মানুষের নির্ভরতার অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ১ শতাংশে। অন্যদিকে, শিশুদের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতার হার রেকর্ড করা হয়েছে ২২ শতাংশ। বিগত এক দশক ধরেই চীনে বয়স্ক নির্ভরতার অনুপাত ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৬ সালে প্রবীণ নির্ভরতার অনুপাত ১৫ শতাংশ থাকলেও ২০২১ সালেই তা ২০ শতাংশ অতিক্রম করে। বর্তমানে চীনে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর বিপরীতে ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখের কাছাকাছি রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী এক সন্তান নীতি এবং দ্রুত নগরায়ণের প্রভাবে জন্মহার কমে যাওয়ায় দেশটিতে টানা চতুর্থ বছরের মতো মোট জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এই জনমিতিক সংকট মোকাবিলা করতে সরকার নাগরিকদের বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে নানা ধরনের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করছে। পরিবারভিত্তিক ভর্তুকি, সন্তান লালন-পালনে সহায়তা এবং চিকিৎসাব্যয় হ্রাসের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ তরুণ সমাজ ও নতুন দম্পতিদের জন্য শহুরে জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও অনুকূল করার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশটিতে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর এই অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে জনমিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। জন্মহার বাড়ানোর এই প্রচেষ্টাগুলো জনমিতিক ভারসাম্য ফেরাতে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




































