খেলা ডেস্ক: মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৬ রানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে দ্রুতই ক্রিজে নামতে হয় নাঈম হাসানকে। জাকের আলির সঙ্গে জুটি গড়ে তিনি দলের রান একশ পার করেন এবং দিন শেষে অপরাজিত থাকেন। আলোকস্বল্পতার কারণে তৃতীয় দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়। দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এসে নাঈম হাসান জানান তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে।
দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন স্পিনার নাঈম হাসান। ৩২ রানের ব্যবধানে ক্যারিবীয়দের শেষ ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পায়। টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চদশ উইকেট পূর্ণ করার পথে তিনি একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ক্যারিবীয় স্পিনে মারাত্মক ধসের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ৫৩ রান তুলতেই টপঅর্ডার ও মিডল অর্ডারের ৬ ব্যাটার সাজঘরে ফিরে যান।
দ্রুত উইকেট পতনের পর বিপর্যয় সামাল দিতে উইকেটে আসেন নাঈম ও জাকের আলী। এই দুজন অত্যন্ত সতর্ক ও ইতিবাচক ব্যাটিং করে দলীয় সংগ্রহ এগিয়ে নেন। সুইপ ও কাটের মতো শট খেলে তারা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন এবং অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ২৬ রান যোগ করেন। দিনের শেষভাগে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি এই দুই ব্যাটার। চতুর্থ দিনেও একই ছন্দ বজায় রেখে দলের রান আরও বাড়িয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নাঈম।
সংবাদ সম্মেলনে নাঈম হাসান উল্লেখ করেন যে, স্কোরে দুইশ রানের লক্ষ্য যুক্ত করতে পারলে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আসার সুযোগ থাকবে। উইকেটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি এবং জাকের লম্বা সময় ব্যাট করার পরিকল্পনা করছেন। যত বেশি সম্ভব রান বোর্ডে যোগ করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। সতীর্থদের এই জুটির ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত বড় লিড দেওয়া সম্ভব হবে, জয় পাওয়া ততই সহজ হবে।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহকারী কোচ ফ্লয়েড রিফার জানিয়েছেন তাদের পরিকল্পনা দ্রুত বাকি চার উইকেট তুলে নেওয়া। মিরপুরের উইকেটের টার্ন ও অসম বাউন্সের কথা মাথায় রেখে তারা লক্ষ্যটাকে নাগালের মধ্যে রাখতে চান। তার মতে, লক্ষ্য যদি ১২৫ বা ১৫০ রানের কাছাকাছিও থাকে, তবে স্পিন সামলানোর প্রস্তুতি থাকায় তা তাড়া করা সম্ভব। চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টার খেলা এই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


































