আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটির ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো পক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি কিংবা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের মধ্যপন্থি জোট—উভয় শিবিরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে রয়েছে। গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজনের কারণে স্বাভাবিক কোনো কোয়ালিশন গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এই রাজনৈতিক সংকটের মুখে ইসরায়েলের সামনে থাকা চারটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম বিকল্প হিসেবে বিরোধী জোটের সরকার গঠনের কথা বলা হলেও, সেখানে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে দুই প্রধান শিবিরের বিভাজন ভেঙে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আলোচনা থাকলেও, দলগুলোর পারস্পরিক অনাস্থা এর বড় বাধা।
তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নেতানিয়াহু বিরোধী দলগুলোতে ভাঙন ধরিয়ে বা সংসদ সদস্যদের দলত্যাগে উৎসাহিত করে সরকার গড়ার চেষ্টা করতে পারেন। তবে বিরোধী শিবিরের প্রধান নেতারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে না বসার ঘোষণা দেওয়ায় আটজন সংসদ সদস্যকে ভাগিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হবে। চতুর্থ ও শেষ বিকল্প হিসেবে দেশটিতে আবারও নির্বাচন এবং দীর্ঘ টানাপড়েনের শঙ্কা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় দেবেন এবং এতে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠবে।
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সরকার গঠনের নানা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কয়েক মাস ধরে তিনিই ক্ষমতা বহাল থাকবেন। নির্ধারিত ১২ সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে কোনো সমাধান না এলে ইসরায়েলিদের আবারও ভোটকেন্দ্রে যেতে হতে পারে। এমনটি ঘটলে আগামী বসন্তের আগে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই, যা হবে গত আট বছরে ইসরায়েলের সপ্তম সাধারণ নির্বাচন।




































