ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে গভীর রাতে বিক্ষোভ Logo নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার ইঙ্গিত সামান্তার Logo নোবিপ্রবিতে ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে সাপের কামড় প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন Logo জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটে পরিচালক নিয়োগ: ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ ও শিক্ষক পদের দেনদরবারের অভিযোগ! Logo ট্রাম্পের চোখে ‘যুদ্ধের নায়ক’, তবুও নির্বাচনে পরাজয়ের ‘বলির পাঁঠা’ হেগসেথ? Logo ঢামেকে চীনা চিকিৎসক দলের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সমাপনী Logo ‘স্বস্তি পেলাম’, কফি উইথ করণ শেষে কারিনার প্রতিক্রিয়া Logo কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভালে টিকেটিং পার্টনার টিকিফাই Logo প্রকৃত শ্রমিকরা আর আন্দোলনে নেই: রিজভী Logo মালয়েশিয়ায় ডিসেম্বরে কর্মী পাঠানো শুরুর আশা

পুকুরের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় মিলেছে ভারী ধাতু ও অ্যান্টিবায়োটিক

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বাণিজ্যিক মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২৫টি পুকুরের নমুনা এবং ছয় প্রজাতির ১৫০টি মাছ পরীক্ষা করে মাছের মধ্যে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন। গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. বদিউজ্জামান খান।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি মাছের শরীরে গড়ে শূন্য দশমিক ৬০টি কণা পাওয়া গেছে এবং ছয় প্রজাতির মধ্যে সরপুঁটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি রয়েছে। রুই ও মৃগেলে গড়ে শূন্য দশমিক ৬৮টি করে কণা পাওয়া গেছে। গবেষক অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান জানান, কণাগুলো মাছের পরিপাকতন্ত্রে পাওয়া গেছে যা মানুষ সচরাচর খায় না, তাই এখনই মানবস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি ক্ষতির কথা বলা যাবে না। তবে একই এলাকার চাষের মাছে ক্রোমিয়াম ও সীসার মতো ভারী ধাতু এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাইদুল আরেফিন বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং প্রতিটি বিষাক্ত পদার্থের একটি সহনীয় মাত্রা থাকে যা অতিক্রম করলে বিষক্রিয়া বাড়ে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতার পাশাপাশি সরকারি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন তিনি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক মো. মাহফুজ আলম প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পলিথিন যত্রতত্র না ফেলে পুনর্ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, মাটি ও পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ায় সরকার গবেষণা শুরু করেছে এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমাতেও কাজ চলছে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, কারখানা, ট্যানারি ও অপরিশোধিত নগর বর্জ্যের কারণে পানিতে ভারী ধাতুর পরিমাণ বেড়ে যায় যা খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রাণীর শরীরে জমা হতে পারে। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ সালে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাদুপানির মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং তামা, সীসা ও ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি পান তিনি। গবেষকদের মতে, এটি আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় না হলেও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উদীয়মান উদ্বেগ হিসেবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন।

জনপ্রিয়

গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে গভীর রাতে বিক্ষোভ

পুকুরের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় মিলেছে ভারী ধাতু ও অ্যান্টিবায়োটিক

প্রকাশিত ১২:৫২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বাণিজ্যিক মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২৫টি পুকুরের নমুনা এবং ছয় প্রজাতির ১৫০টি মাছ পরীক্ষা করে মাছের মধ্যে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন। গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. বদিউজ্জামান খান।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি মাছের শরীরে গড়ে শূন্য দশমিক ৬০টি কণা পাওয়া গেছে এবং ছয় প্রজাতির মধ্যে সরপুঁটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি রয়েছে। রুই ও মৃগেলে গড়ে শূন্য দশমিক ৬৮টি করে কণা পাওয়া গেছে। গবেষক অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান জানান, কণাগুলো মাছের পরিপাকতন্ত্রে পাওয়া গেছে যা মানুষ সচরাচর খায় না, তাই এখনই মানবস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি ক্ষতির কথা বলা যাবে না। তবে একই এলাকার চাষের মাছে ক্রোমিয়াম ও সীসার মতো ভারী ধাতু এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাইদুল আরেফিন বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং প্রতিটি বিষাক্ত পদার্থের একটি সহনীয় মাত্রা থাকে যা অতিক্রম করলে বিষক্রিয়া বাড়ে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতার পাশাপাশি সরকারি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন তিনি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরিচালক মো. মাহফুজ আলম প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পলিথিন যত্রতত্র না ফেলে পুনর্ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, মাটি ও পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ায় সরকার গবেষণা শুরু করেছে এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমাতেও কাজ চলছে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, কারখানা, ট্যানারি ও অপরিশোধিত নগর বর্জ্যের কারণে পানিতে ভারী ধাতুর পরিমাণ বেড়ে যায় যা খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রাণীর শরীরে জমা হতে পারে। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ সালে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাদুপানির মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং তামা, সীসা ও ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি পান তিনি। গবেষকদের মতে, এটি আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় না হলেও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উদীয়মান উদ্বেগ হিসেবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন।