ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা Logo এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে ফেল: পুনঃপরীক্ষার আবেদন কবে সিদ্ধান্ত বুধবারের মধ্যে Logo ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি এড়াতে ৫টি অভ্যাস গড়ে তুলুন Logo বন্ধুত্ব হতে পারে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি Logo সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকিতে জলজ প্রাণী-জীববৈচিত্র্য Logo টিএমজিবির সভাপতি মাসুদ রুমী, সম্পাদক কুমার বিশ্বজিত Logo নতুন কুপে গ্যাসের সন্ধান, দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুটের প্রত্যাশা Logo অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা কি শুধুই রোগ, নাকি অন্য কোনও বিপদের সংকেত? Logo ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির শামসুর রহমানের ৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ Logo শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে পরাজিত শক্তি ইন্ধন দিচ্ছে: রিজভী

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকিতে জলজ প্রাণী-জীববৈচিত্র্য

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবনসংলগ্ন নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অসাধু কিছু জেলে দ্রুত বেশি লাভের আশায় পানিতে বিষ মিশিয়ে মাছ ধরছেন, যার ফলে সুন্দরবনের স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্র চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকাই অভয়ারণ্য হওয়া সত্ত্বেও এই অবৈধ কার্যক্রমে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন মারাত্মকভাবে বিপন্ন হচ্ছে। জোয়ারের টানে বিষাক্ত পানি বনের গহীনে প্রবেশ করায় ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে বনের ভেতরে মাছের প্রাপ্যতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক দেশীয় প্রজাতি আজ বিলুপ্তির পথে। বিষমিশ্রিত পানি পান করার ফলে সুন্দরবনের বাঘ ও হরিণের মতো বন্যপ্রাণীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। স্থানীয় জেলে মো. সোহেল জানিয়েছেন যে ক্ষতিকর এই উপায়ে মাছ ধরার কারণে সাধারণ মানুষের শরীরেও নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। এছাড়া বিষযুক্ত এসব মাছ বাজারে আসার ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শরণখোলা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস সতর্ক করে জানিয়েছেন যে বিষ প্রয়োগে ধরা এসব মাছ খেলে মানুষের লিভার ও কিডনি অকেজো হওয়াসহ প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে বনের ৩৮২ প্রজাতির মাছের মধ্যে অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রজাতি তীব্র সংকটে পড়েছে। বিগত কয়েক বছরে নদী ও খালে বিষ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মৎস্যসম্পদের এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম জানান যে বৈধভাবে মাছ ধরার অনুমতি থাকা এলাকায় বিষ প্রয়োগ রোধে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি চালানো হচ্ছে। অবৈধ এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি উত্তরণ ফিশনেট প্রকল্পের মাধ্যমে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিংড়ির রেণু শিকার বন্ধে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকিতে জলজ প্রাণী-জীববৈচিত্র্য

প্রকাশিত ০৭:০৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবনসংলগ্ন নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অসাধু কিছু জেলে দ্রুত বেশি লাভের আশায় পানিতে বিষ মিশিয়ে মাছ ধরছেন, যার ফলে সুন্দরবনের স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্র চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শরণখোলা রেঞ্জের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকাই অভয়ারণ্য হওয়া সত্ত্বেও এই অবৈধ কার্যক্রমে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন মারাত্মকভাবে বিপন্ন হচ্ছে। জোয়ারের টানে বিষাক্ত পানি বনের গহীনে প্রবেশ করায় ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে বনের ভেতরে মাছের প্রাপ্যতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক দেশীয় প্রজাতি আজ বিলুপ্তির পথে। বিষমিশ্রিত পানি পান করার ফলে সুন্দরবনের বাঘ ও হরিণের মতো বন্যপ্রাণীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। স্থানীয় জেলে মো. সোহেল জানিয়েছেন যে ক্ষতিকর এই উপায়ে মাছ ধরার কারণে সাধারণ মানুষের শরীরেও নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। এছাড়া বিষযুক্ত এসব মাছ বাজারে আসার ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শরণখোলা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস সতর্ক করে জানিয়েছেন যে বিষ প্রয়োগে ধরা এসব মাছ খেলে মানুষের লিভার ও কিডনি অকেজো হওয়াসহ প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে বনের ৩৮২ প্রজাতির মাছের মধ্যে অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রজাতি তীব্র সংকটে পড়েছে। বিগত কয়েক বছরে নদী ও খালে বিষ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মৎস্যসম্পদের এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম জানান যে বৈধভাবে মাছ ধরার অনুমতি থাকা এলাকায় বিষ প্রয়োগ রোধে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি চালানো হচ্ছে। অবৈধ এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি উত্তরণ ফিশনেট প্রকল্পের মাধ্যমে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিংড়ির রেণু শিকার বন্ধে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।