আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের পর দলের ভেতরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্য সমর্থন এবং যুদ্ধের নায়ক হিসেবে অভিহিত করলেও রাজনৈতিক মহলে তাকে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্বাচনের এই শোচনীয় পরাজয়ের সব দায় এখন হেগসেথের ওপর চাপিয়ে তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর জোর গুঞ্জন চলছে। দলের একটি বড় অংশ এবং শীর্ষস্থানীয় নেতারা তার পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং তাকে সরিয়ে দেওয়ার জোর আওয়াজ তুলেছেন।
পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধের বড় ধরনের ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন খোদ ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। পেন্টাগনের এক সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে সামরিক হামলার পথ বেছে নেওয়ার ভুল কৌশল নিয়েছিল প্রতিরক্ষা দপ্তর। এছাড়া যুদ্ধের লক্ষ্য ও ব্যাপ্তি নিয়ে হেগসেথ সরকার ও দলকে ভুল পথে পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক রিপাবলিকান কর্মকর্তা।
কেন্টাকির রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি ইতোমধ্যে হেগসেথের পদত্যাগ দাবি করে জানিয়েছেন যে, তিনি সরে না দাঁড়ালে কংগ্রেসে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হবে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, থমাস ম্যাসি আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই অভিশংসন প্রস্তাব তৈরি করে রেখেছেন এবং প্রতিনিধি পরিষদে এর ওপর ভোটাভুটি করাতে চান। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি হেগসেথের সামরিক চিন্তাভাবনা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে রিপাবলিকান পার্টির অনেক প্রবীণ আইনপ্রণেতাও তার ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।
অন্যদিকে, ট্রাম্প সাংবাদিকদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই এবং তিনি খুব ভালো কাজ করছেন। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসনও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে প্রতিরক্ষা দপ্তর হেগসেথের দূরদর্শিতার পেছনে পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রশাসনের ভেতরের কিছু উপদেষ্টা মনে করছেন যে রাজনৈতিক চাপ সামলাতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসতে পারে এবং তাতে হেগসেথকেই প্রথম কোপানলের শিকার হতে হবে।





































