ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলায় জুমিয়া ফসলসহ ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা

রাজধানী ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা। নাগরিক উদ্যোগ এবং আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এটি পঞ্চম মেলা, যেখানে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের উৎপাদিত ফসল ও ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রদর্শন করছে। শুক্রবার সকালে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ডজন তিনেক স্টলে সাজানো এই মেলায় ভিন্নধর্মী খাবারের স্বাদ নিতে এবং কেনাকাটা করতে দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকা এই মেলায় কেনাবেচাও বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেলা প্রাঙ্গণে পাহাড়ের জনপ্রিয় বাঁশকোড়ল, বিভিন্ন ধরনের আলু, কচু, শাক ও ফলমূলের পাশাপাশি হরেকরকম চালের সমাহার রয়েছে। এছাড়া কলাপাতায় ভাপ দিয়ে রান্না করা হেবাঙ, সবজি দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পাঁচন এবং হরেক রকমের পিঠা দর্শনার্থীদের রসনাকোয়েল মেটাচ্ছে। খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে আসা এক স্টলমালিক মিষ্টি ভুট্টা, পাহাড়ি মাছ, আনারস, জাম্বুরা ও মরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রি করছেন। আয়োজকদের মূল লক্ষ্য হলো ভেজালমুক্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ আদিবাসী খাদ্যপণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান বলেন, আদিবাসীদের খাদ্যাভাস সর্বস্তরের মানুষের কাছে তুলে ধরার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার ও বোঝার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন ঢাকায় আদিবাসীদের পণ্যের জন্য একটি স্থায়ী বাজার গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, কক্সবাজারে রাখাইন মার্কেট থাকতে পারলে ঢাকায় কেন আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক স্থায়ী বাজার বরাদ্দ করা হবে না।

উদ্বোধনী আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান শিরিন পারভিন হক, অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা, আয়োজক কমিটির সদস্য মিঠুন রাকসাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা। মেলার সার্বিক আয়োজনের বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের প্রকল্প কর্মকর্তা মৌসুমি রায় জানান, ভেজালহীন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই মেলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মং, বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা ও উদীয়মান গায়ক মার্কুস চিসিম তাদের পরিবেশনা দিয়ে মঞ্চ মাতাবেন। পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল নৃত্য পরিবেশনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শনিবারেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য এই মেলা উন্মুক্ত থাকবে। বৈচিত্র্যময় খাবার ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলা নগরবাসীর মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে এবং ছুটির দিনেও লোকসমাগম বজায় রয়েছে।

জনপ্রিয়

স্ত্রীর ক্যান্সার বদলে দিয়েছে কিউই পেসারের ক্রিকেট-ভাবনা

আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলায় জুমিয়া ফসলসহ ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা

প্রকাশিত ০৭:৫২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানী ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা। নাগরিক উদ্যোগ এবং আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এটি পঞ্চম মেলা, যেখানে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের উৎপাদিত ফসল ও ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রদর্শন করছে। শুক্রবার সকালে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ডজন তিনেক স্টলে সাজানো এই মেলায় ভিন্নধর্মী খাবারের স্বাদ নিতে এবং কেনাকাটা করতে দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকা এই মেলায় কেনাবেচাও বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেলা প্রাঙ্গণে পাহাড়ের জনপ্রিয় বাঁশকোড়ল, বিভিন্ন ধরনের আলু, কচু, শাক ও ফলমূলের পাশাপাশি হরেকরকম চালের সমাহার রয়েছে। এছাড়া কলাপাতায় ভাপ দিয়ে রান্না করা হেবাঙ, সবজি দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পাঁচন এবং হরেক রকমের পিঠা দর্শনার্থীদের রসনাকোয়েল মেটাচ্ছে। খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে আসা এক স্টলমালিক মিষ্টি ভুট্টা, পাহাড়ি মাছ, আনারস, জাম্বুরা ও মরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রি করছেন। আয়োজকদের মূল লক্ষ্য হলো ভেজালমুক্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ আদিবাসী খাদ্যপণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান বলেন, আদিবাসীদের খাদ্যাভাস সর্বস্তরের মানুষের কাছে তুলে ধরার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার ও বোঝার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন ঢাকায় আদিবাসীদের পণ্যের জন্য একটি স্থায়ী বাজার গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, কক্সবাজারে রাখাইন মার্কেট থাকতে পারলে ঢাকায় কেন আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক স্থায়ী বাজার বরাদ্দ করা হবে না।

উদ্বোধনী আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান শিরিন পারভিন হক, অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা, আয়োজক কমিটির সদস্য মিঠুন রাকসাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা। মেলার সার্বিক আয়োজনের বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের প্রকল্প কর্মকর্তা মৌসুমি রায় জানান, ভেজালহীন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই মেলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মং, বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা ও উদীয়মান গায়ক মার্কুস চিসিম তাদের পরিবেশনা দিয়ে মঞ্চ মাতাবেন। পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল নৃত্য পরিবেশনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শনিবারেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য এই মেলা উন্মুক্ত থাকবে। বৈচিত্র্যময় খাবার ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলা নগরবাসীর মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে এবং ছুটির দিনেও লোকসমাগম বজায় রয়েছে।