রাজধানী ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরার ফুটপাতে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী এবং জনতা ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার মনগড়া অভিযোগ তুলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের পাকার মাথা এলাকায় সম্প্রতি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ডিএনসিসির একটি দল নির্দিষ্ট ওই এলাকায় হকার উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে হকারদের জরিমানা করা হলেও রশিদ বা রিসিট প্রদান করতে সামান্য বিলম্ব হয়। এই বিলম্বের কারণেই মূলত উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেখানে অতিরিক্ত লোকজন জড়ো হয়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমাকে অবরুদ্ধ করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরুদ্ধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিরাপদে উদ্ধার করে। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিসিট দেওয়া নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির জেরে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং পুলিশের টিম সেখানে পৌঁছে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
এদিকে, এই অনভিপ্রেত ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে লাইন কেটে দেন। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল।
নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং জনসাধারণের চলাচল সুগম করার জন্য সিটি করপোরেশনের নিয়মিত অভিযানের অংশ ছিল এটি। তবে এ ধরনের কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হওয়া এবং হেনস্তা করার ঘটনা জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য বড় অন্তরায়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি দায়িত্বে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





































